স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের নতুন অধ্যায়: ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে নরেন্দ্র মোদী

ভারত ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে আজ ৬ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ৬ দিনের বিদেশ সফরে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরে তিনি ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ ভ্রমণ করবেন।

সফরের প্রধান এজেন্ডা: প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং নতুন প্রযুক্তিগত খাতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করা। এছাড়া প্রতিটি দেশেই প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও তাদের সম্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরের বিস্তারিত সূচি:

  • ইন্দোনেশিয়া (৬-৮ জুলাই): ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে জাকার্তা ও যোগজাকার্তায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৮ সালের ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর পর এটিই মোদীর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। প্রমবানান মন্দিরে সফরসহ দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত বন্ধন আরও দৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

  • অস্ট্রেলিয়া: ইন্দোনেশিয়ার পর মেলবোর্নে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈঠক করবেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে। গত কয়েক বছরে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একে অপরের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে। খেলাধুলা, শিক্ষা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে নতুন চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

  • নিউজিল্যান্ড: সফরের শেষ পর্যায়ে অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন মোদী। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)-এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সরকার এই তিনটি দেশের সঙ্গে নতুন করে কৌশলগত আস্থা তৈরি করতে চায়, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে।

সফরে রওনা হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে এই দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক কেবল সহযোগিতাই বাড়াবে না, বরং গোটা অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন পথ খুলে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *