‘উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন মমতা’, বারুইপুর সফর নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ পুরমন্ত্রীর

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হাউজ অ্যারেস্ট’ বা নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁকে কেন নজরবন্দি করা হবে না? একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগও এনেছেন তিনি।
১৫ বছরের শাসন নিয়ে অগ্নিমিত্রার আক্রমণ
অগ্নিমিত্রা পাল তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের সমালোচনা করে বলেন, “গত ১৫ বছরে প্রতিদিন, প্রতি মিনিটে বাংলায় মহিলাদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, তখন কি তিনি একবারও গ্রামের মানুষকে দেখতে গিয়েছিলেন? বরং তিনি উন্নাও বা মণিপুরে টিম পাঠিয়েছেন, কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।” তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতির গুরুত্ব না বুঝে কেবল রাজনীতি করছেন।
‘উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা’
বারুইপুর সফর প্রসঙ্গে পুরমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সেখানে গিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমরা কি তার অনুমতি দেব? গত ১৫ বছর ধরে তিনি বিভাজনের রাজনীতি করেছেন, আজও তিনি সেখানে গিয়ে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আমরাই সেখানে গিয়েছিলাম এবং আমরাই যাব।”
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ: ১৬৩ ধারা জারি
বারুইপুরের ঘটনার পর যাতে এলাকায় কোনো বড় ধরনের উত্তেজনা বা অশান্তি ছড়াতে না পারে, সেই লক্ষ্যে নবান্নের নির্দেশে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর—এই তিনটি থানা এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট থানা এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সরকার বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনোভাবেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে দিতে রাজি নয়। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গৃহবন্দি হওয়ার অভিযোগ ও তাঁর সফর ঘিরে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় সংঘাতের পূর্বাভাস দিচ্ছে।