‘মার না খেলে পেটের ভাত হজম হতো না’,-মা তনুজার শাসন নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী কাজল

আধুনিক যুগের ‘জেন্টল পেরেন্টিং’ (Gentle Parenting) বা শিশুদের মানসিক স্বাধীনতার ধারণার সাথে নব্বইয়ের দশকের শৈশবের আকাশ-পাতাল তফাত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ছোটবেলার এমনই কঠোর শৃঙ্খলার স্মৃতিচারণ করলেন বলিউড তারকা কাজল। তিনি জানালেন, তাঁর মা, প্রখ্যাত অভিনেত্রী তনুজা তাঁকে অত্যন্ত কড়া শাসনে রাখতেন।

কাজলের শৈশবের স্মৃতি: অভিনেত্রী অকপটে স্বীকার করেছেন, ছোটবেলায় মায়ের হাতে প্রচুর মার খেয়েছেন তিনি। কাজল বলেন, “মায়ের ধারণা ছিল, দিনে দু-একবার মার না খেলে আমার পেটের ভাত হজম হতো না। হাতের কাছে যা পেতেন, তা দিয়েই মা মারতেন। এমনকি আমার দিদাও আমাকে বই ছুড়ে মেরেছেন।” তবে এই কঠোরতাকে তিনি নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। কাজলের মতে, এই শাসনই তাঁকে জীবনের কঠিন বাস্তবের সঙ্গে লড়াই করার মতো মানসিক শক্তি দিয়েছে।

শাসন বনাম নির্যাতন: মনোবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি কাজলের এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই অভিভাবক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে চর্চা। একপক্ষের দাবি, সন্তানকে মানুষ করতে শাসনের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান প্রজন্মের মনোবিদরা অতিরিক্ত শাসন বা শারীরিক নিগ্রহের কট্টর বিরোধী। তাঁদের মতে, শৈশবের এই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শিশুর মনে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত তৈরি করে।

অতিরিক্ত শাসনের কুফল: মনোবিদরা শিশুদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের কয়েকটি ক্ষতিকর দিক চিহ্নিত করেছেন:

  • মানসিক নিরাপত্তাহীনতা: কড়া শাসনের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুরা নিজের ঘরেও সুরক্ষিত বোধ করে না, যার ফলে বড় হয়ে তারা কাউকে বিশ্বাস করতে ভয় পায়।

  • আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা: শৈশবের ট্রমা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ বড় বয়সে রাগ, হতাশা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের অক্ষমতা তৈরি করে।

  • আত্মবিশ্বাসের অভাব: সবসময় ভুলের শাস্তির ভয়ে থাকলে শিশুর আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। তারা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায় এবং নিজেদের মূল্যহীন ভাবতে শুরু করে।

পেরেন্টিং-এ ভারসাম্য রক্ষার উপায়: সন্তানকে সুশৃঙ্খল করে তোলা মানেই তাকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারসাম্যপূর্ণ পেরেন্টিংয়ের জন্য পাঁচটি পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন: ১. যৌক্তিক নিয়ম: সন্তানের বয়স অনুযায়ী নিয়ম ঠিক করুন এবং কেন সেই নিয়ম মানা জরুরি, তা বুঝিয়ে বলুন। ২. খোলামেলা পরিবেশ: বাড়িতে এমন পরিবেশ গড়ে তুলুন যাতে সন্তান ভয় না পেয়ে নিজের মনের সব কথা শেয়ার করতে পারে। ৩. সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা: নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থেকে সন্তানকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে শেখান। ৪. প্রচেষ্টাকে বাহবা দিন: ফলাফল বা সাফল্যের চেয়ে সন্তানের পরিশ্রম ও চেষ্টাকে বেশি গুরুত্ব দিন। ৫. সহযোগী হোন: সন্তানের জীবনের ‘নিয়ন্ত্রক’ না হয়ে তার চলার পথের ‘সহযোগী’ হয়ে উঠুন।

(সতর্কবার্তা: শাসন ও নির্যাতনের পার্থক্য বোঝা একজন অভিভাবকের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সন্তানের মানসিক বিকাশই হওয়া উচিত সঠিক পেরেন্টিংয়ের প্রধান লক্ষ্য।)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *