মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ! নরেন্দ্রপুর কাণ্ডে ৩ কর্মী বরখাস্ত, উত্তাল ক্যাম্পাস

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা জগতে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে এক ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এখন উত্তাল রাজ্য। ঘটনার পর থেকেই হোস্টেলের কর্মীদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন প্রধান শিক্ষক, আর অভিযুক্ত তিন কর্মীকে করা হয়েছে সাময়িক বরখাস্ত।

কী ঘটেছিল সেই দিন?

নিহত ছাত্র দীপ্তাংশু মহাতার বাবা মনোরঞ্জন মহাতার অভিযোগ, ঘটনার দিন মঙ্গলবার সকালে ছাত্রটি গরম চা পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। অভিযোগ, অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। বাবার দাবি, দুপুর ১টার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যখন ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে।

নির্যাতনের অভিযোগ ও ক্ষোভের আগুন

মিশনের ছাত্র এবং অভিভাবকদের অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ:

  • দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন: অভিযোগ, হোস্টেলের কর্মীরা ছাত্রটিকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করছিলেন।

  • নেশার ঘোরে নির্যাতন: এক কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রতি শুক্রবার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছাত্রটিকে নির্যাতন করতেন।

  • হাসপাতাল নিয়ে গড়িমসি: বন্ধুদের দাবি, দীপ্তাংশুর বাবা না আসা পর্যন্ত তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।

কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও তদন্ত

পরিস্থিতি সামাল দিতে মিশনের সচিব স্বামী জ্ঞানন্দ মহারাজ একটি বৈঠক ডাকেন। তবে বৈঠকে কর্তৃপক্ষের উত্তরের সন্তুষ্ট হতে পারেননি শোকাহত অভিভাবকরা। বর্তমানে স্কুল কর্তৃপক্ষ সৌরভ তারু বিশ্বাস, সোমনাথ বৈরাগী এবং সমরেশ ধারা—এই তিন কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।

পুলিশ কী বলছে?

বারুইপুর পুলিশ ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট অরবিন্দ কুমার আনন্দ জানিয়েছেন, “সব দিক থেকে তদন্ত চলছে।” পুলিশের একটি দল ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পাশাপাশি ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *