WhatsApp-এর পর Telegram-কে Username নিয়ে নোটিশ, জেনেনিন কী সমস্যা?

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর হলো কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই এবার টেলিগ্রাম ও সিগন্যালকেও নোটিশ পাঠাল সরকার। পরিচয় গোপন রেখে প্রতারণার ফাঁদ এড়াতে এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন সরকার চিন্তিত?
প্রযুক্তি মন্ত্রকের প্রধান উদ্বেগের কারণ হলো ‘ইউজারনেম’ ফিচার। সরকারের আশঙ্কা, ফোন নম্বরের পরিবর্তে ইউজারনেম ব্যবহার করলে অপরাধীরা খুব সহজেই কোনো সেলিব্রিটি, সরকারি আধিকারিক বা পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ধারণ করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তে থাকা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এবং ফিশিং-এর মতো সাইবার অপরাধগুলো এই ফিচারের মাধ্যমে আরও সহজতর হয়ে উঠতে পারে বলে সরকারি মহলের ভয়।
হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে কী নির্দেশ?
হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন ফিচার নিয়ে মেটা-কে ইতিমধ্যে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। নির্দেশ অনুযায়ী, নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত সমস্ত আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতে এই ফিচার চালু করা যাবে না। পাশাপাশি মেটার চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসারকে তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই ফিচার সাইবার অপরাধের ঝুঁকি কতটা বাড়াবে, তা নিয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে সরকার।
টেলিগ্রাম ও সিগন্যালের অবস্থান
হোয়াটসঅ্যাপের বিপরীতে টেলিগ্রাম ও সিগন্যালে ইতিমধ্যে ফোন নম্বরের বদলে ইউজারনেম ব্যবহার করার সুবিধা রয়েছে। সরকার এই দুই প্ল্যাটফর্মের কাছে জানতে চেয়েছে—এই ফিচারের অপব্যবহার রোধে তারা কী ধরণের সুরক্ষাকবচ বা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর দেয়নি সংস্থাগুলো।
বিশেষজ্ঞদের দ্বিমত
এই ফিচার নিয়ে প্রযুক্তিবিদদের মধ্যেও চলছে দুই ধরণের আলোচনা:
-
ভয়ের দিক: একাংশের মতে, পরিচয় ভাঁড়ানোর সুযোগ থাকায় নতুন ধরনের প্রতারণার পথ প্রশস্ত হবে।
-
সম্ভাবনার দিক: অন্য একদল বিশেষজ্ঞের মতে, ফোন নম্বরের ওপর নির্ভরতা কমলে ‘সিম-সোয়াপ’ (SIM-Swap) প্রতারণার মতো মারাত্মক অপরাধ কমতে পারে। কারণ, বর্তমানে অপরাধীরা মোবাইল নম্বরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ফেলছে।
সরকারের এই কঠোর অবস্থান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রয়াস। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য অ্যাপ সংস্থাগুলি তাদের সুরক্ষাকবচ নিয়ে সরকারকে কীভাবে আশ্বস্ত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।