ভারত-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: হরিয়ানার খাড়খোদোয় মারুতির বিশালাকার কারখানার উদ্বোধন

ভারতের অটোমোবাইল বা গাড়ি উৎপাদন শিল্পের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। হরিয়ানার খাড়খোদোয় মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়ার নতুন এবং অত্যন্ত আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রের যৌথ উদ্বোধন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৃহস্পতিবার ‘ভারত-জাপান জয়েন্ট ইকোনমিক ফোরাম’-এর অঙ্গ হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই কারখানার উদ্বোধন করেন দুই রাষ্ট্রনেতা।
৩৫,০০০ কোটির বিশাল বিনিয়োগ এই প্রকল্পটি ভারতের অটোমোবাইল খাতের সাম্প্রতিকতম বৃহত্তম বিনিয়োগগুলোর মধ্যে অন্যতম। ৮০০ একর জমির ওপর নির্মিত এই বিশাল কমপ্লেক্সটি মারুতির চতুর্থ উৎপাদন কেন্দ্র। এই প্রকল্পে মোট ৩৫,০০০ কোটি টাকার লগ্নি করা হয়েছে, যা ভারত-জাপান দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের এক নতুন নজির।
নতুন প্ল্যান্টের বিশেষত্ব:
-
উৎপাদন ক্ষমতা: পূর্ণ মাত্রায় চালু হলে এই প্ল্যান্টে প্রতি বছর ১০ লক্ষ গাড়ি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এটি মারুতির বার্ষিক ৪০ লক্ষ গাড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।
-
কর্মসংস্থান: এই প্রকল্প থেকে প্রত্যক্ষভাবে ২১,০০০-এরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, পাশাপাশি আনুষঙ্গিক শিল্পেও প্রচুর কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
-
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি: এই কারখানাটি মারুতির ‘সুজুকি স্মার্ট ফ্যাক্টরি’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে ইন্ডাস্ট্রি ৫.০ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত কোবটস (সহযোগী রোবট) এবং ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি একটি ‘জিরো লিকুইড ডিসচার্জ’ কারখানা হিসেবে কাজ করবে।
অর্থনৈতিক ফোরামের গুরুত্ব কারখানা উদ্বোধনের পাশাপাশি আয়োজিত ‘ভারত-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম’-এ ১৫০টিরও বেশি জাপানি সংস্থা অংশ নিয়েছে। দুই রাষ্ট্রনেতা উৎপাদন শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, ক্লিন এনার্জি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই উদ্বোধনের মাধ্যমে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত সরকার, যা ভারতকে বিশ্বব্যাপী অটোমোবাইল হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।