হাইকোর্টে খারিজ আবেদন, পুরুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী

রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ফেলে দিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। বুধবার পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। গ্রেপ্তারের ঠিক আগেই কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়।
কেন গ্রেপ্তার? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে এই দম্পতির বৈধ আয় ছিল মাত্র ১ কোটি টাকা, অথচ বিলাসবহুল জীবনযাপন ও গাড়ি কেনার পেছনে খরচ হয়েছে কয়েক গুণ বেশি। মামলাকারীর আইনজীবী কুমার জ্যোতি তিওয়ারির দাবি, গত পাঁচ বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি গড়েছেন তাঁরা। এছাড়া, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে।
অদিতির জামিন, দেবরাজের জেল: এই মামলায় দেবরাজের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক ও সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সিও আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত অদিতিকে জামিন দিলেও দেবরাজের আবেদন নাকচ করে দেয়। আদালত জানিয়েছে, অদিতি মুন্সির শিশুপুত্রের কথা বিবেচনা করেই মানবিক কারণে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে, তবে তদন্তে তাঁকে পুরোপুরি সহযোগিতা করতে হবে। অন্যদিকে, দেবরাজের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা মেলেনি।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর এই গ্রেপ্তার তৃণমূল শিবিরে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে। একদিকে পারিবারিক জীবনে নতুন সদস্য আসার আনন্দ, আর অন্যদিকে দুর্নীতির দায়ে স্বামী-স্ত্রীর আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে এই দম্পতির জীবন এখন প্রবল চাপের মুখে।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর এখন তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দেবরাজ চক্রবর্তীর এই গ্রেপ্তারি দুর্নীতি বিরোধী তদন্তে নতুন কী মোড় আনে, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।