রাম মন্দিরের কোটি টাকার অনুদান লোপাট! ট্রাস্টের ৫ বড় গাফিলতি ধরল বিশেষ তদন্তকারী দল

রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা দেশে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে গঠিত ‘সিট’ (SIT)-এর তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, ২০২৫ সালের কুম্ভমেলার সময় ভক্তদের রেকর্ড ভিড়কে কাজে লাগিয়ে ট্রাস্টের বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছে এক দুষ্কৃতী চক্র।

দুই ভায়রাভাইয়ের মাস্টারপ্ল্যান: তদন্তে নেমে সিট মোট ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে মূল চক্রী হিসেবে উঠে এসেছে লবকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্র নামের দুই ভায়রাভাইয়ের নাম। পুলিশি জেরায় স্বীকারোক্তি থেকে স্পষ্ট, এদের নেতৃত্বেই পুরো চুরির ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল।

ট্রাস্টের যে ৫ বড় গলদ ফাঁস: তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, মন্দিরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার চরম গাফিলতিকেই হাতিয়ার করেছিল অপরাধীরা। উঠে এসেছে ৫টি বড় অভিযোগ: ১. টাকা স্থানান্তরে অস্বচ্ছতা: দানবাক্স থেকে টাকা সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় ছিল বড় ধরনের ফাঁক। ২. নগদ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা: টাকা গোনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নিয়মাবলি বারবার লঙ্ঘন করা হয়েছে। ৩. নিরাপত্তার অভাব: সিসিটিভি ফুটেজ ৪৫ দিন পর মুছে যাওয়ার মতো হাস্যকর ব্যবস্থা ছিল, সংরক্ষণের কোনো স্থায়ী বন্দোবস্তই ছিল না। ৪. হিসাবের গরমিল: দানবাক্সের সংগৃহীত টাকা ও ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া অঙ্কের মধ্যে কখনোই কোনো সামঞ্জস্য রাখা হয়নি। ৫. সতর্কবার্তা উপেক্ষা: স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) আর্থিক অনিয়ম নিয়ে বারবার সতর্ক করলেও ট্রাস্টের কর্তারা তা পাত্তাই দেননি।

আইনজীবীদের কড়া অবস্থান: এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফৈজাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশন এক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। সংগঠনের জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এই ৮ অভিযুক্তের হয়ে কোনো আইনজীবী আদালতে লড়াই করবেন না। কোনো সদস্য এই নির্দেশ অমান্য করলে তাঁকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুণতে হবে।

দেশের মানুষের আবেগের জায়গায় এমন আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে এখন জনমানসে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ট্রাস্টের কর্তারা এই দায় এড়াতে পারেন কি না, তা নিয়ে এখন চলছে বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *