সিবিআই-এর জালে খোদ আইপিএস! তদন্ত রফাদফার নামে কোটি কোটি টাকার ঘুষ, পর্দাফাঁস করল কেন্দ্রীয় সংস্থা

ভুয়ো ওষুধ তৈরির চক্রের তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অঙ্কের ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক আইপিএস অফিসার। ধৃতের নাম দীপক গেহলত। তিনি বর্তমানে ‘ব্যুরো অব সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি’ (BCAS)-এর রিজিওনাল ডিরেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর গ্রেফতারির ঘটনায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কীভাবে ফাঁদে পড়লেন আইপিএস?
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) সূত্রে খবর, পন্ডিচেরির এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভুয়ো ওষুধ তৈরির মামলা চলছিল। আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে ওই ব্যবসায়ী যোগাযোগ করেন দিল্লির ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর প্রদীপ সিংয়ের সঙ্গে। প্রদীপ তাঁকে আইপিএস অফিসার দীপক গেহলতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
বৈঠকে আইপিএস অফিসার দাবি করেন, সিবিআই-এর শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি সহজেই তদন্তের গতিপথ ব্যবসায়ীর অনুকূলে ঘুরিয়ে দিতে পারবেন। এই অসাধু কাজের বিনিময়ে তিনি ৩ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে দেড় কোটি টাকা অগ্রিম হিসেবে চেয়েছিলেন তিনি।
কীভাবে পর্দাফাঁস?
চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবসায়ী হাওয়ালার মাধ্যমে ১ কোটি টাকা ইন্সপেক্টর প্রদীপ সিংয়ের কাছে পৌঁছে দেন। প্রদীপ সেই টাকা থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ওই আইপিএস অফিসারের ঘনিষ্ঠ প্রভাত নামের এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। গত ৮ জুন সিবিআই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ফাঁদ পাতে এবং ইন্সপেক্টর প্রদীপ সিং ও দালাল রাজকুমারকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তাদের জেরা করেই এই দুর্নীতির মূল মাথা হিসেবে দীপক গেহলতের নাম উঠে আসে।
তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ:
ইন্সপেক্টর এবং দালালকে জেরার পর অবশেষে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এই আইপিএস অফিসারকে গ্রেফতার করেছে। এই চক্রের সাথে আরও কারা যুক্ত রয়েছে এবং তদন্তের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে এখন ধৃত দীপক গেহলতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করছেন সিবিআই আধিকারিকরা।