হাতছাড়া হবে ‘জোড়া ফুল’? প্রতীকের লড়াইয়ে দিল্লিতে ঋতব্রত-শিবির, চাপের মুখে মমতা!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষমতার লড়াই এখন তুঙ্গে। দলের নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন মোড়। এরই প্রেক্ষিতে আজ, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে বৈঠক করতে চলেছে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

নির্বাচন কমিশনে কেন এই বৈঠক? দলের একাংশ বিদ্রোহী হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—উভয় পক্ষই ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি জানিয়ে পৃথক কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা জমা দিয়েছে। সেই সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্যই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি পাড়ি দিয়েছে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

বিদ্রোহীদের দাবি ও পাল্টা কৌশল: সম্প্রতি নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিশেষ বৈঠকে বিদ্রোহী বিধায়করা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অরূপ রায়কে দলের নতুন প্রধান হিসেবে বেছে নিয়ে ঋতব্রত-শিবির দাবি করেছে, দলের গঠনতন্ত্রের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল। তাদের দাবি, বিধায়কদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন তাদের সঙ্গেই রয়েছে। পাশাপাশি, দলের তহবিলের অডিট নিয়েও সরব হয়েছেন তারা, যার জেরে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

মমতা শিবিরের অবস্থান: অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা দলের প্রতীক ও তহবিল—দুটোর ওপরই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। দলের বর্ষীয়ান নেতারা জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজীবন চেয়ারপার্সন হিসেবে বহাল থাকবেন। সাংসদ মহুয়া মৈত্র প্রশ্ন তুলেছেন, নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করার আগে প্রতীকের ওপর দাবি জানানো কতটা আইনসম্মত।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: একুশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট ক্রমাগত জটিল হচ্ছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব, অন্যদিকে বিদ্রোহীদের ‘দলে সংস্কার’ ও নতুন নেতৃত্বের দাবি—এই লড়াইতে এখন চূড়ান্ত নজর নির্বাচন কমিশনের রায়ের দিকে। কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে তৃণমূলের আগামী দিনের পথচলা এবং প্রতীক ব্যবহারের আইনি বৈধতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *