দিল্লির ঐতিহ্যে নয়া চমক! ঐতিহাসিক স্থাপত্য সংরক্ষণে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজধানীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা ‘পিপিপি’ (PPP) মডেলে দিল্লির ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভগুলোর সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সাধনের জন্য দুটি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন তিনি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এখন থেকে সাধারণ নাগরিক, এনজিও (NGO) কিংবা বেসরকারি সংস্থাগুলো ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলো দত্তক নিতে পারবে।

কী এই দুই প্রকল্প? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দিল্লির গৌরবময় ইতিহাস রক্ষায় সরকার ‘দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী স্মারক অভিগ্রহণ যোজনা’ এবং ‘দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী ঐতিহ্য নবউত্থান যোজনা’ নামে দুটি প্রকল্প চালু করছে। মূলত আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-এর আওতাভুক্ত নয়, এমন স্থানীয় গুরুত্বসম্পন্ন ৭৫টি স্মৃতিস্তম্ভকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে।

দত্তক নেওয়া বা ‘স্মারক মিত্র’ হওয়ার উপায়:

  • কে নিতে পারবে: পিএসইউ (PSU), ব্যক্তিগত সংস্থা, নিবন্ধিত এনজিও, ট্রাস্ট এবং আগ্রহী নাগরিকরা স্বেচ্ছায় এই স্মৃতিস্তম্ভগুলো দত্তক নিতে পারবেন। তাদের বলা হবে ‘স্মারক মিত্র’।

  • কী করতে হবে: দত্তক নেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে স্মৃতিস্তম্ভের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা এবং পর্যটক-বান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত খরচ সংশ্লিষ্ট ‘স্মারক মিত্র’ বহন করবেন।

  • সময়ের মেয়াদ: এই দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়াটি হবে ৫ বছরের জন্য। সরকার, জমি মালিকানা সংস্থা এবং স্মারক মিত্রের মধ্যে একটি ত্রি-পক্ষীয় চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হবে।

  • স্বচ্ছতা: পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। এছাড়া, ইওআই (EOI) বা ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ জমা দিয়ে একটি ভিশন ডকুমেন্ট তৈরি করতে হবে।

অন্যান্য বিশেষ সুবিধা: ‘ঐতিহ্য নবউত্থান যোজনা’র আওতায় বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলোকে স্মৃতিস্তম্ভের মূল গঠনগত সংরক্ষণ এবং সংস্কারের জন্য সরকার ২ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদানও প্রদান করবে। তবে কোনোভাবেই এখান থেকে অর্জিত আয়ের ব্যক্তিগত মুনাফা করা যাবে না, সেই অর্থ সম্পূর্ণভাবে স্মৃতিস্তম্ভের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণেই ব্যয় করতে হবে।

এই প্রকল্পের ফলে সরকারি কোষাগারের যেমন সাশ্রয় হবে, তেমনি ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলো পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে আশা করছে দিল্লি সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *