নেতাদের লক্ষ্য করে ‘এগ থেরাপি’! কড়া ধমক কলকাতা হাইকোর্টের, রাজ্য সরকারের কাছে চাইল রিপোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে সম্প্রতি নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, যা এখন ‘এগ থেরাপি’ (Egg Therapy) নামে পরিচিতি পেয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতার প্রেক্ষিতে এবার হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করতে হবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী রাজ্য সরকারের আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “এ ধরনের ঘটনার মোকাবিলায় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে? সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কী করা হচ্ছে? কেবল দু-একজনকে গ্রেফতার করলেই কি সমস্যার সমাধান হবে?”

বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেন, জনপ্রতিনিধি বা সাধারণ নাগরিক—যাই হোক না কেন, প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব।

কী বলছেন দুই পক্ষ?

  • সরকারের অবস্থান: অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানান, রাজ্য সরকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। তবে পুলিশের দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

  • অন্য পক্ষের যুক্তি: অন্যদিকে, আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ নীরব থাকছে এবং অনেক সময় খোদ মন্ত্রীরাই উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন। এয়ারপোর্টের মতো সংবেদনশীল এলাকাতেও নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে বেশ কয়েকজন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কুণাল ঘোষ, সব্যসাচী দত্ত—অনেকেই এই ‘এগ থেরাপি’র মুখে পড়েছেন। বিষয়টির পুনরাবৃত্তি রুখতে তৃণমূলের অন্দরেও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে, সাংসদ মহুয়া মৈত্রর মতো নেতারাও এ ধরনের ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন।

হাইকোর্টের নির্দেশ: সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর, কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে দুটি বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে: ১. ভবিষ্যতে নেতাদের বা সাধারণ মানুষের ওপর এই ধরনের হামলা রুখতে একটি স্পষ্ট ‘গাইডলাইন’ বা নির্দেশিকা তৈরি করতে হবে। ২. ঘটনার প্রেক্ষিতে বর্তমান পরিস্থিতি এবং নেওয়া ব্যবস্থা সম্পর্কে রাজ্য সরকারকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *