সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জেনারেল ধীরাজ শেঠ: বাহিনীর ‘রূপান্তরের দশক’-এর নতুন সারথি

মঙ্গলবার সাউথ ব্লকের লনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩১তম সেনাপ্রধান (COAS) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জেনারেল ধীরাজ শেঠ। চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনে অবসর নেওয়া জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। আনুষ্ঠানিক কমান্ড হস্তান্তরের মাধ্যমে জেনারেল শেঠ এখন দেশের স্থলবাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্বে।
এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব ১৯৯৭ সালের পর এই প্রথম আর্মার্ড কোর (সাঁজোয়া বাহিনী) থেকে কোনো কর্মকর্তা সেনাপ্রধানের পদে আসীন হলেন। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে কমিশনপ্রাপ্ত জেনারেল শেঠ সেনাবাহিনীর অন্দরমহলে একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও কৌশলী রণকৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি গত এপ্রিল মাস থেকে উপ-সেনাপ্রধান (VCOAS) হিসেবে সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
অভিজ্ঞতার ঝুলি জেনারেল শেঠ এমন একজন বিরল কর্মকর্তা, যিনি সেনাবাহিনীর দুটি প্রধান অপারেশনাল কমান্ড—জয়পুর-ভিত্তিক দক্ষিণ-পশ্চিম কমান্ড এবং পুনে-ভিত্তিক দক্ষিণ কমান্ড—উভয়েরই নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হলো:
-
অভিযানগত দক্ষতা: জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং মরু অঞ্চলে সাঁজোয়া রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দেওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।
-
নেতৃত্ব: ভোপাল-ভিত্তিক একবিংশ কোর (সুদর্শন চক্র কোর)-এর নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দিল্লি অঞ্চলের জিওসি (GOC) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন।
-
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি (NDA)-র এই প্রাক্তন ছাত্র দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সামরিক শিক্ষায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এমনকি অ্যাঙ্গোলায় জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
সেনাবাহিনীর ‘রূপান্তরের দশক’ ভারত এখন সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও সমন্বিত পরিকাঠামো উন্নয়নের ‘রূপান্তরের দশক’-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল শেঠের সামনে চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য থাকবে বহুমুখী: ১. ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কমান্ড: স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার মধ্যে সমন্বিত থিয়েটার কমান্ডের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের তত্ত্বাবধান করা। ২. আধুনিকীকরণ: ড্রোন যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মাধ্যমে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা। ৩. যৌথ অভিযান: নৌ ও বায়ুসেনার সঙ্গে যৌথ অভিযানে বাহিনীর কার্যকারিতা বাড়ানো।
পিতা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কৃষ্ণ মোহন শেঠের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো জেনারেল ধীরাজ শেঠের এই নিয়োগ, ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। তাঁর হাত ধরেই ভারতীয় সেনা আগামী দিনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আরও আধুনিক ও দক্ষ হয়ে উঠবে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।