বিধানসভায় বড় সিদ্ধান্ত! পিএসি (PAC) নির্বাচন ঘিরে হঠাৎ স্থগিতাদেশ, নতুন তারিখ কবে?

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার কার্যক্রমে বড় রদবদল। পিএসি (পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি)-সহ চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাউস কমিটির নির্বাচন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। ৫ জুলাই এই নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, নবান্ন ও বিধানসভা সূত্রে খবর, তা পিছিয়ে আগামী ২১ জুলাই হতে পারে।

কেন এই স্থগিতাদেশ? বিধানসভার মোট ২০টি হাউস কমিটির মধ্যে পিএসি-কে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণত, পরিষদীয় প্রথা অনুযায়ী এই কমিটির চেয়ারম্যান পদটি প্রধান বিরোধী দলের হাতে থাকার কথা। কিন্তু অতীতে একাধিকবার তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে এই প্রথা মানা হয়নি বলে বিরোধীদের অভিযোগ রয়েছে। সূত্র মারফত খবর, এবারের নির্বাচন যদি সর্বসম্মতিক্রমে না হয়, তবে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে। নির্বাচন হলে সেটি কার্যত নজিরবিহীন হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তৃণমূলের প্রস্তুতি: নির্বাচন স্থগিত থাকলেও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না। ইতিমধ্যেই পিএসি-সহ বাকি তিনটি কমিটির জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। মুকুল রায়, কৃষ্ণ কল্যাণী বা মানস ভুঁইয়ার সময়কালে পিএসি চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এবারের নির্বাচনে তা নতুন মোড় নেয় কি না, সেদিকেই নজর সবার।

বিরোধীদের আইনি লড়াই: বর্তমানে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক তৃণমূল থেকে আলাদা হয়ে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের দাবি করছেন এবং তারাই নিজেদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ফলে কে হবে প্রকৃত বিরোধী দল এবং কার হাতে যাবে পিএসি চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ—তা এখন বিচারধীন। আদালত ও বিধানসভার জটিল এই পরিস্থিতিতে ২১ জুলাইয়ের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *