ধর্মতলায় সভা ঘিরে ধুন্ধুমার! কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর হতেই তুঙ্গে বিতর্ক

২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এবার আইনি জটে কুণাল ঘোষ। ধর্মতলার মতো ব্যস্ত এলাকায় রাস্তা আটকে রাজনৈতিক কর্মসূচি করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে লালবাজার। এই নির্দেশের মাঝেই দলের মাপজোক করা নিয়ে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর। যা নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি।

ঠিক কী ঘটেছিল? জানা গেছে, গত রবিবার কুণাল ঘোষ ও দোলা সেন ধর্মতলায় যান এবং ডেকরেটর্সের কর্মীদের নিয়ে সভার জায়গার মাপজোক করেন। তৃণমূলের অন্দরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে এই জায়গা দখল নিয়ে রেষারেষি চলছে। অভিযোগ, লালবাজারের অনুমতি মেলার আগেই জোর করে মাপজোক চালানো হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ঋতব্রত শিবিরের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন কুণালরা। এই মাপজোকের ঘটনার পরেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

কী বলছেন কুণাল? এই আইনি পদক্ষেপকে কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “রবিবার দুপুরে বৃষ্টি ভেজা রাস্তা, আশেপাশে কোনো যান চলাচল ছিল না, একটি মানুষও ছিল না। তারপরেও কেউ এফআইআর করে? এই প্রেমপত্র এলে তার যথাযথ জবাব দেব।”

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিধায়ক। তাঁর প্রশ্ন, ছুটির দিনে রাস্তা ফাঁকা থাকা অবস্থায় মাপজোক করা হলে সাধারণ মানুষের বা প্রশাসনের কী অসুবিধা হতে পারে?

অন্যদিকে, লালবাজারের অবস্থান স্পষ্ট। কালীঘাট ও ঋতব্রত—তৃণমূলের উভয় শিবিরকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ধর্মতলার মতো জনবহুল এলাকায় রাস্তা আটকে সভার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ তৈরিকে কেন্দ্র করে ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রশাসনের কড়া অবস্থান এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *