নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের ওপর জোর জয়শঙ্করের, মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে জারি কড়া সতর্কতা

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অবৈধ অভিবাসন এবং মানব পাচারের মতো সমস্যার মোকাবিলায় কড়া বার্তা দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘হিউম্যান রিসোর্স মোবিলিটি ফোরাম’-এ ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, ভারত এখন নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং আইনসম্মত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

২৬টি দেশের সঙ্গে চুক্তি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদেশে ভারতীয়দের বৈধ কর্মসংস্থান ও দক্ষতাভিত্তিক সুযোগ বাড়াতে ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ভারত ২৬টি দেশের সঙ্গে মোট ২৮টি ‘অভিবাসন ও গতিশীলতা অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (Migration and Mobility Partnership Agreements) স্বাক্ষর করেছে। আরও বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বক্তব্যের শুরুতেই জয়শঙ্কর মানব পাচারকারী এবং প্রতারক দালালদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন:

  • বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা: অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার পুরো বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে নষ্ট করে।

  • শোষণের শিকার: প্রতারক দালালরা অসহায় অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণ করে এবং তাদের জীবনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।

  • সম্মিলিত দায়িত্ব: এই ধরনের অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কেবল একটি দেশের কাজ নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সব দেশের সম্মিলিত দায়িত্ব।

ভারতের কৌশল ও লক্ষ্য ভারত সরকার এখন তার যুবশক্তির জন্য বিশ্বজুড়ে বৈধ কাজের সুযোগ প্রসারিত করার পাশাপাশি, অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি কমাতেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদেশমন্ত্রীর মতে, আধুনিক বিশ্বে মানবসম্পদ বা দক্ষ শ্রমিকের চলাচল হওয়া উচিত স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন অভিবাসীরা সুরক্ষিত থাকবেন, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিরও উন্নতি ঘটবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে দক্ষ কর্মীবাহিনীর বৈধ চলাচলের পাশাপাশি অবৈধ সীমান্ত পারাপার একটি বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত তার কঠোর অবস্থান ও কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *