রবীন্দ্রনাথের জাভা সফরের শতবর্ষের আগে বড় উপহার! আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল শান্তিনিকেতনের দুই শিল্প

শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মুকুটে যুক্ত হলো নতুন এক উজ্জ্বল পালক। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাভা সফরের শতবর্ষ পূরণের প্রাক্কালে, ভারত সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ বা জিআই (GI) ট্যাগ পেল শান্তিনিকেতনী বাটিক ও শান্তিনিকেতনী একতারা। এই স্বীকৃতিতে আনন্দিত শিল্পী মহল, বাউল সমাজ ও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

কেন এই স্বীকৃতি ঐতিহাসিক? দীর্ঘদিনের নান্দনিক ঐতিহ্য, শিল্পগুণ এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক হিসেবে এই স্বীকৃতি শান্তিনিকেতনের শিল্পকে বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থান দেবে। বীরভূম জেলা প্রশাসন ও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এই শিল্প দুইটিকে দেশ-বিদেশে আরও ব্যাপকভাবে প্রচার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইউনেস্কোর পথে শান্তিনিকেতনী বাটিক: জিআই ট্যাগ পাওয়াই শেষ লক্ষ্য নয়। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (EZCC)-এর অধিকর্তা আশিসকুমার গিরি জানিয়েছেন, শান্তিনিকেতনী বাটিককে ইউনেস্কোর (UNESCO) ‘ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ’ বা অস্পৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইতিমধ্যেই প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “শান্তিনিকেতনী বাটিকের নিজস্ব এক শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একে অনন্য করে তুলেছে।”

একতারার নতুন পথচলা: বাউল গানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘একতারা’ বাদ্যযন্ত্রটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জিআই ট্যাগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আশিসকুমার গিরি আরও জানান, উত্তর-পূর্ব ভারতের লোকায়ত ঐতিহ্য রক্ষায় কেন্দ্র সরকার বদ্ধপরিকর। একতারার এই স্বীকৃতি বিলুপ্তপ্রায় অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র সংরক্ষণের পথেও নতুন উৎসাহ জোগাবে।

সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের ইতিহাস: শান্তিনিকেতনী বাটিকের ইতিহাস কেবল কাপড়ের ওপর কারুকাজ নয়, এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইন্দোনেশিয়া তথা জাভা সফরের সময়কার সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের এক অনন্য নিদর্শন। বাটিক শিল্পকে ঘিরে বিশ্বভারতী ও বীরভূম প্রশাসন এখন এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে আরও নিবিড়ভাবে তুলে ধরার রূপরেখা তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *