মাড়ি দিয়ে রক্ত? সাধারণ ভেবে অবহেলা করবেন না, সায়নের কাহিনী দিচ্ছে বড় সতর্কবার্তা!

শরীর আমাদের নানারকম সংকেত দেয়, যার অনেকগুলোই আমরা সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু মালদার সায়ন ঘোষের ক্ষেত্রে মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার মতো সামান্য একটি উপসর্গই যে প্রাণঘাতী রোগের ইঙ্গিত হতে পারে, তা কে ভেবেছিল? ২২ বছরের এই যুবক আজ দ্বিতীয় জীবন ফিরে পেলেন এক সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমে।
কী হয়েছিল সায়নের? গৌড় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র সায়নের শরীরে ধরা পড়ে ‘সিভিয়ার অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া’। এটি এমন এক বিরল ও বিপজ্জনক রোগ, যেখানে হাড়ের মজ্জা বা বোন ম্যারো শরীরে প্রয়োজনীয় লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেট তৈরি করতে পারে না। ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকে এবং যেকোনো সময় বড় বিপদের আশঙ্কা থাকে। সায়নের ক্ষেত্রে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে মাত্র ৭ হাজারে নেমে এসেছিল।
সংগ্রাম ও জয়: ফেব্রুয়ারি মাসে টানা জ্বরের প্রকোপে সায়নের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এরপর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় লড়াই। বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টই ছিল একমাত্র পথ। সায়নের দাদা শাশ্বত ঘোষের সঙ্গে এইচএলএ (HLA) ম্যাচিং একশো শতাংশ মিলে যাওয়ায় চিকিৎসার পথ সহজ হয়। বড় ভাই হিসেবে শাশ্বত এগিয়ে আসেন বোন ম্যারো দান করতে। গত ১১ মার্চ সম্পন্ন হয় সফল অস্ত্রোপচার। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর সায়ন এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ ও বার্তা: হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ড. রাজীব দে বলেন, “সায়নের দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্তই তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে। এই ধরনের রোগে সময় নষ্ট করা মারাত্মক হতে পারে।”