“শোয়েব আখতারের দাদার শেষকৃত্যে লস্কর জঙ্গিরা!”-ঘটনা ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

প্রাক্তন পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব আখতারের দাদার শেষকৃত্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। গত ২৪ জুন ইসলামাবাদে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ নেতাদের প্রকাশ্যে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি ও পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী সইফউল্লাহ কাসুরির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে ফের পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগকে জোরালো করল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসলামাবাদের H-8 কবরস্থানে আয়োজিত ওই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল লস্করের ডেপুটি চিফ সইফউল্লাহ কাসুরি। তার সঙ্গেই ছিল ইনাস উর রহমান, যিনি পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগ (পিএমপিএল)-এর সভাপতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিএমপিএল আসলে লস্করেরই এক রাজনৈতিক মুখ, যা রাষ্ট্রসংঘের ঘোষিত জঙ্গি হাফিজ সইদের হাত ধরেই তৈরি হয়েছিল।
কেন উদ্বেগের কারণ ভারতের জন্য?
সইফউল্লাহ কাসুরির উপস্থিতি ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চিন্তার বিষয়। কেন?
-
পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড: ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই হামলার মূল প্ল্যানার হিসেবে চিহ্নিত কাসুরি।
-
ক্রমাগত হুমকি: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কাসুরি সরাসরি ভারতকে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে হামলার হুমকি দিয়েছিল। ২৬/১১ মুম্বাই হামলার আদলে ফের আক্রমণের হুমকিও দিয়েছিল এই জঙ্গি।
পাকিস্তানের মুখোশ কি আবারও খুলল?
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, পাকিস্তানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কীভাবে লস্করের মতো সংগঠনের শীর্ষ নেতারা দিনের আলোয় প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে। সমালোচকদের মতে, পাকিস্তানে জঙ্গিদের এমন অবাধ বিচরণ ও প্রভাব তাদের সন্ত্রাসবাদ লালনের নীতিকেই ফের স্পষ্ট করল।
শোয়েব আখতার ভারতের ক্রিকেট মহলে এবং ধারাভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত মুখ হলেও, তাঁর পারিবারিক অনুষ্ঠানে জঙ্গি নেতাদের উপস্থিতি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন তিক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই ভিডিওটি সামনে আসতেই ভারত ও আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র নিন্দা।