ইরান-ট্রাম্প চরম সংঘাত! হরমুজ প্রণালী নিয়ে কি তবে যুদ্ধের দামামা?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও অস্থিরতার কালো মেঘ। আরব বিশ্বে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে তৈরি ‘১৪-দফা সমঝোতা স্মারক’ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকি ও কঠোর অবস্থানের জেরে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৈরি হওয়া এই নতুন কূটনৈতিক অচলাবস্থা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী ও পরিদর্শনের জট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী অখণ্ড রাখা হবে এবং এর নিয়ন্ত্রণ থাকবে মার্কিন বাহিনীর হাতে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের সাফ কথা, হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং তারা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে মার্কিনীদের হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষপাতী নয়।
পাশাপাশি, পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের বিষয়টি নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন নাটক। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান আইএইএ (IAEA) কর্মকর্তাদের প্রবেশের অনুমতি দিতে প্রস্তুত। কিন্তু ইরান এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তেহরানের স্পষ্ট বক্তব্য, সুইজারল্যান্ডে রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে কোনো বৈঠকের খবর সত্যি নয় এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কোনো পরিদর্শককে পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোজতবা খামেনি কেবল তখনই পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যদি তা কোনো চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হয়। একই সঙ্গে, ওয়াশিংটনের ক্রমাগত হুমকিমূলক বিবৃতি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তেহরান কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানের দাবি, এই ধরনের আগ্রাসী মানসিকতা আলোচনার পথকে চিরতরে রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতামত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান ‘পাওয়ার প্লেয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। কিন্তু এই ‘পাওয়ার গেম’ শান্তি আলোচনার পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলছে। কূটনৈতিক মহলের ভয়, ট্রাম্পের এই কৌশল শেষ পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি সর্বাত্মক যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যখন শান্তির আশা ক্রমশ ম্লান হচ্ছে, তখন এই দুই শক্তির দ্বৈরথ কোথায় গিয়ে শেষ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।