চীনের আধিপত্যে বড় ধাক্কা! মার্কিন সেনার ঘাঁটিতেই বসছে খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট

বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিল আমেরিকা। এবার মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ভেতরেই তৈরি হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট। প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যক ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজ, লিথিয়াম এবং গ্রাফাইটের সরবরাহ সুরক্ষিত করতে এই নতুন কৌশল নিয়েছে পেন্টাগন।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজের প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা চীনের দখলে। সম্প্রতি বেইজিং বেশ কিছু মার্কিন সংস্থার ওপর রফতানি নিষেধাজ্ঞা জারি করায় আমেরিকার শিল্প ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র চাপের মুখে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতির মোকাবিলার পাশাপাশি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা কার্যকর করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

কোন ঘাঁটিতে কাজ হবে?

পেন্টাগন কয়েকটি খ্যাতনামা সংস্থার সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • REalloys Inc: ইউটার ‘টুয়েল আর্মি ডিভোট’-এ রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ করবে।

  • টাইটান মাইনিং কর্পোরেশন: আরকানসাসের ‘পাইন ব্লাফ আর্সেনাল’ এবং আলাবামার ‘অ্যানিস্টন আর্মি ডিভোট’-এ গ্রাফাইট বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট বসাবে।

  • EnergyX: লিথিয়াম প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে।

  • Ioneer Ltd: এই অস্ট্রেলিয়ান সংস্থাটি বোরন প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্ব সামলাবে।

সামরিক ক্ষেত্রে এই খনিজের গুরুত্ব কতটুকু?

স্মার্টফোন থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান, মিসাইল সিস্টেম, কম্পিউটার চিপ এবং ইলেকট্রিক ভেহিকলের জন্য রেয়ার আর্থ খনিজ অপরিহার্য। বিশেষ করে টার্বিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়ামের মতো উপাদানগুলো শক্তিশালী হিট-রেজিস্ট্যান্ট চুম্বক তৈরিতে লাগে, যা আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের মূল ভিত্তি।

ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য

রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন খনিজ উৎপাদন বাড়ানো অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর জন্য সরকার ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক মিনারেল রিজার্ভ’ তৈরির পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া জড়িত কোম্পানিগুলোকে বিপুল অংকের ঋণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক অবকাঠামোকে এভাবে খনিজ প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত আগামী দিনে বিশ্ববাজারের সাপ্লাই চেইনে এক বড় পরিবর্তন আনবে। এটি কেবল চীনকে টেক্কা দেওয়ার জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যতের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের জন্য আমেরিকাকে আত্মনির্ভর করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *