সাংসদদের দলত্যাগেও অবিচল শিবসেনা (ইউবিটি): উদ্ধব-পুত্রের ওপর আস্থা রাখলেন সঞ্জয় রাউত

সম্প্রতি ছয়জন লোকসভা সাংসদের দলত্যাগে শিবসেনা (ইউবিটি)-র অন্দরে ভাঙন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে দলের দৃঢ়তা ও ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে মুখ খুললেন বর্ষীয়ান সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সাংসদরা দল ছেড়ে গেলেও তৃণমূল স্তরে শিবসেনা (ইউবিটি) আগের চেয়েও শক্তিশালী এবং দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তরুণ নেতা আদিত্য ঠাকরে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
প্রজন্মগত পরিবর্তনের বার্তা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় রাউত বলেন, “৪০ বছর ধরে প্রবীণ নেতারা দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন সময় এসেছে প্রজন্মগত পরিবর্তনের।” তাঁর মতে, তরুণ নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসার এটাই উপযুক্ত সময়। এই প্রসঙ্গে আদিত্য ঠাকরের ভূয়সী প্রশংসা করে রাউত বলেন, “আদিত্যের মধ্যে দল সামলানোর মতো সমস্ত যোগ্যতা রয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে সেই দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের প্রধান দায়িত্ব তিনিই গ্রহণ করবেন। আমরা তাঁকে স্বাগত জানাব।”
দলত্যাগীদের তীব্র আক্রমণ দলের ছয় সাংসদের দলত্যাগকে ‘বিদ্রোহ’ বলে মানতে নারাজ রাউত। তিনি সাফ জানান, ‘বিদ্রোহী’ শব্দটি ভগত সিং বা সুখদেবের মতো বিপ্লবীদের জন্য সংরক্ষিত থাকা উচিত। রাউতের অভিযোগ, “যারা অর্থ, ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দল ছাড়েন, তারা বিপ্লবী নন। এই সাংসদরা কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছেন।” দলত্যাগী নেতাদের প্রতি তৃণমূল কর্মীদের কোনো সমর্থন নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
উদ্ধব ঠাকরের মাস্টারপ্ল্যান দল ছাড়ার ঘটনাগুলোর পর পরিস্থিতি সামলাতে এবং দলের কর্মীদের মনোবল বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন উদ্ধব ঠাকরে। রাউত জানান, যেসব সাংসদ দল ছেড়েছেন, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় সরাসরি গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন উদ্ধব। ভোটারদের কাছে দলের অবস্থান পরিষ্কার করা এবং তৃণমূল স্তরের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সঞ্জয় দিনা পাতিল, ওমপ্রকাশ রাজেনিম্বলকারসহ ছয়জন সাংসদ শিবসেনা (ইউবিটি) ছেড়ে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাউতের এই মন্তব্য দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বার্তা দেওয়ার একটি কৌশল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।