শিক্ষা ব্যবস্থায় নজিরবিহীন সংকট! কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলনের ডাক কংগ্রেসের

প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল, ফলাফল প্রকাশে চরম বিলম্ব এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উত্তাল ছাত্রসমাজ। এই পরিস্থিতিতে সারা দেশের ছাত্র-যুবদের ক্ষোভকে সংগঠিত করতে ৪০ দিনের এক সর্বভারতীয় প্রচার অভিযানের ডাক দিল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে দলের পক্ষ থেকে এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’।
আন্দোলনের মূল দাবি: কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবির কথা জানানো হয়েছে:
-
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ।
-
পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার।
-
নিয়োগ ও পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট বার্ষিক ক্যালেন্ডার চালু করা।
কংগ্রেসের অভিযোগ: কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এআইসিসির সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কমিউনিকেশনস বিভাগের চেয়ারপার্সন সুপ্রিয়া শ্রীনাত, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও রাজ্যের নেতা প্রসেনজিৎ বোস। সুপ্রিয়া শ্রীনাত সরাসরি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকারের অধীনে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি ছাত্রছাত্রীদের সমস্ত আস্থা নষ্ট করেছে।
সুপ্রিয়া শ্রীনাতের দাবি, “NEET UG 2026 কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতীক। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বর্তমান সরকার। NTA আজ কার্যত ‘ন্যাশনাল ট্রমা এজেন্সি’তে পরিণত হয়েছে।”
আগামী কর্মসূচির পরিকল্পনা: পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ২৮টি প্রধান শহরে এই ৪০ দিনের অভিযান চালানো হবে। শুধুমাত্র বড় শহর নয়, ছাত্র-যুবকদের এই আন্দোলনের বার্তা তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই কংগ্রেস এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
রাজ্যের রাজনীতিতে এই ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। বিরোধী দলগুলো যখন কেন্দ্রীয় পরীক্ষা সংস্থার ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করে সরকার বিরোধী সুর আরও চড়া করছে, তখন এই ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অভিযান কেন্দ্রের ওপর বড়সড় চাপ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।