তারাতলাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়! গ্রেফতার ৪, এবার পুলিশের স্ক্যানারে কারা? জানুন বিস্তারিত

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় শোকের ছায়ার মাঝেই তদন্তে গতি বাড়াল কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১১ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ১৯ জন এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ইতিমধ্যেই ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এবার তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করতে চলেছে লালবাজার।

কাদের জেরা করবে পুলিশ? কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনায় মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, যার মধ্যে একজনের (আজগর হুসেন) মৃত্যু হয়েছে। বাকি চারজন—বিল্ডিং সুপারভাইজার মহম্মদ গুলজার, জমির লিজধারী শম্ভুনাথ বেহরা, লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক কমল সামন্ত এবং শ্রমিক সরবরাহকারী দিবারক ভাণ্ডারী ও পুরসভার দালাল আব্দুল হামিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তের পরবর্তী ধাপে পুলিশ যাদের জেরা করার পরিকল্পনা করেছে:

  • জীবিত উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা: ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং নিরাপত্তার অভাব ছিল কি না, তা জানতে তাদের বয়ান রেকর্ড করা হবে।

  • উদ্ধার হওয়া ফোন: ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ফোনগুলোর সূত্র ধরে নতুন নাম বা তথ্যের খোঁজে নেমেছে পুলিশ।

  • কলকাতা পুরসভার আধিকারিক: গুদামের নকশা অনুমোদন ও নিয়ম মেনে কাজ চলছিল কি না, তা জানতে পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জেরা করা হতে পারে।

নিখোঁজ শ্রমিকের হিসেব নেই! সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গুদামে কর্মরত শ্রমিকদের কোনো হাজিরা খাতা বা রেজিস্টার ছিল না। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন চাপা পড়ে আছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পুলিশের কাছে নেই। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর রাজ্য সরকার আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা ও শহরতলিতে সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। নির্মাণকাজে গাফিলতি ও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে পুলিশের নজর এখন পুরসভার অন্দরমহলেও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *