তারাতলায় ভয়াবহ বিপর্যয়: নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে মৃত ৪, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আরও অনেকে!

তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ গোডাউন। বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ কলকাতার তারাতলা ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও পর্যন্ত ২২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, ৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
যুদ্ধের ময়দানে উদ্ধারকারীরা
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আটকে থাকাদের কাছে অক্সিজেন, জল এবং শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। উদ্ধারকাজে নেমেছে পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল এবং সেনা জওয়ানরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার রড ও কংক্রিটের স্ল্যাব কেটে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। রাতের অন্ধকারেও যাতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত না হয়, সেজন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্নিফার ডগের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি কোণ তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
হতাহতের খবর
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। মৃত ৪ জনের মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে— কৃষ্ণ চৌধুরী (পেশায় কলের মিস্ত্রি) এবং রোহিত চৌধুরী। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
প্রশাসনিক তৎপরতা
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং পুরমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁরা এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। কীভাবে এই নির্মীয়মাণ কাঠামোটি ধসে পড়ল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।