গণনায় কারচুপির অভিযোগ: ভবানীপুর মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ আদালতের

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত নির্দেশ দিয়েছেন যে, ভবানীপুর গণনাকেন্দ্রের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না। এই ফুটেজগুলিকে আগামী দুই মাস সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত রাখতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী দুই মাস পর অনুষ্ঠিত হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট: ভবানীপুর নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হওয়ার পর, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। মামলাকারীর দাবি, ভোট গণনার ১২তম রাউন্ড পর্যন্ত তিনি এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু ১৩তম রাউন্ড থেকে গণনায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।

আদালতে আইনজীবীর যুক্তি: মমতা ব্যানার্জীর পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জী আদালতে সওয়াল করেন যে, গণনার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির এজেন্টদের সহায়তা করেছিল। তিনি দাবি করেন, সিসিটিভি ক্যামেরায় গণনার দিনের সেই অশান্তি ও অনিয়মের পুরো দৃশ্যই রেকর্ড হয়ে আছে। আইনজীবী দ্রুত এই মামলার সমাধানের আর্জি জানালেও, আদালত ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে শুনানির পরবর্তী সময় দুই মাস পিছিয়ে দিয়েছে।

রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জী আরও অভিযোগ করেন যে, ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার, যিনি নন্দীগ্রামেও একই দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি। বরং পরবর্তীকালে তাঁকে সরকারি উচ্চপদস্থ পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া, জেনারেল অবজারভারের কাছে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি আদালতে দাবি করেন।

এই মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশকে রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দুই মাস পর পরবর্তী শুনানিতে এই ফুটেজ মামলার মোড় ঘোরানোর ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *