অদিতি মুন্সিকে আগাম জামিন হাইকোর্টের, ১০০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগে বিপাকে দেবরাজ চক্রবর্তী

তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, চরম আইনি বিপাকে তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। অদিতির চার মাসের শিশুসন্তান রয়েছে—এই মানবিক দিকটি বিবেচনা করে তাঁকে আগাম জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। অন্যদিকে, দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
আদালতের নজরে অদিতির শর্তাবলি
কলকাতা হাইকোর্ট অদিতি মুন্সিকে আগাম জামিন দিলেও বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে:
-
পাসপোর্ট জমা: আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না এবং পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে।
-
সাক্ষী সুরক্ষা: তদন্ত চলাকালীন কোনো সাক্ষীকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করা যাবে না।
-
এলাকায় নিষেধাজ্ঞা: বিশেষ নির্দেশে জানানো হয়েছে, আপাতত বাগুইআটি থানা এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না প্রাক্তন বিধায়ক।
দেবরাজের বিরুদ্ধে ১০০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ
অন্যদিকে, কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর ক্ষেত্রে আদালত কোনো ছাড় দেয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় জমেছে:
-
বিপুল সম্পত্তি: অভিযোগ, দেবরাজের নামে ১৯টি এবং অদিতির নামে ৩টি সম্পত্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকারও বেশি।
-
বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মন্তব্য করেন, সেল ডিড এবং ডেভেলপমেন্ট ডিডের ক্ষেত্রে যে টাকার অঙ্ক দেখানো হয়েছে, তা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং চাতুর্যপূর্ণ।
-
নির্বাচনী হলফনামায় জালিয়াতি: নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় হলফনামায় সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিহার যোগ ও গ্রেফতারি
তদন্তে নেমে বাগুইআটি থানার পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে। অভিযোগ, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিপুল টাকা লেনদেন হতো বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা রাম শর্মার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। এই সূত্র ধরেই পুলিশ রাম শর্মাকে গ্রেফতার করেছে এবং বারাসত আদালত তাঁকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ঠিক কী উদ্দেশ্যে এবং কেন দেবরাজ চক্রবর্তী ওই অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতেন।
এই আইনি লড়াইয়ে দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিন খারিজ হওয়ায় এখন তাঁর গ্রেফতারির সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।