বাহ্যিক চাকচিক্য সব ফাঁকি! চীনের সুপারফাস্ট ট্রেনের অন্দরে এ কেমন নরকযন্ত্রণা? ভাইরাল ভিডিও দেখে চোখ কপালে নেটিজেনদের

বুলেট ট্রেনের ঝকঝকে গতি, অত্যাধুনিক স্টেশনের চোখধাঁধানো রূপ আর প্রযুক্তির চরম শিখর— চীন বললেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে এই উন্নত ছবি। কিন্তু সব চকমকে জিনিসের আড়ালেই কি লুকিয়ে থাকে অন্য এক অন্ধকার সত্যি? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও চীনের রেল ব্যবস্থার সেই লুকানো বাস্তবকে সামনে এনেছে, যা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

ভিডিওটি ক্যামেরাবন্দি করেছেন সঞ্জন কুমার নামের এক ভারতীয় পর্যটক, যা তিনি তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট @phirsetravel-এ শেয়ার করেছেন। চীনে একটি সাধারণ লোকাল ট্রেনে ভ্রমণ করার সময় তিনি এই মাঠপর্যায়ের দৃশ্যটি রেকর্ড করেন।

শৌচাগারের পাশে বসে যাতায়াত! ভারতীয় রেলের সাথে তুলনা নেটিজেনদের
ভাইরাল ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের সাধারণ কামরাটি (General Compartment) যাত্রীতে একেবারে ঠাসা। পা ফেলার মতো ন্যূনতম জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই। বসার আসন না পেয়ে বহু মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এমনকি, ভিড়ের চাপে ট্রেনের মেঝেতে এবং নোংরা শৌচাগারের (Toilet) ঠিক পাশে বসেই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন বহু সাধারণ চিনা নাগরিক।

এই ভিডিওটি অনলাইনে আসার সাথে সাথেই বিশেষ করে ভারতীয় নেটিজেনরা শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। অনেকেই এই দৃশ্যটিকে ভারতীয় রেলের সাধারণ কামরার প্রতিদিনের চেনা ভিড়ের সাথে তুলনা করে মন্তব্য করেছেন, “চীন বিশ্বকে যতই তার অগ্রগতির বড়াই দেখাক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল পরিস্থিতি সব দেশেই এক!” কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, শুধুমাত্র বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে কোনো দেশের আসল সত্য বিচার করা যায় না। তবে কিছু ব্যবহারকারী ওই ভারতীয় পর্যটককে সতর্ক করে বলেছেন, চীনের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই ধরণের সংবেদনশীল গ্রাউন্ড রিপোর্ট করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বুলেট ট্রেনের দেশে কেন এই ‘নরকগুলজার’ লোকাল ট্রেন?
চীনের কাছে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম দ্রুতগতির (High-Speed) রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে, যেখানে ট্রেনগুলি ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ছুটে চলে। তা সত্ত্বেও কেন এই ধরণের ধীরগতির গাদাগাদি সাধারণ ট্রেন চালানো হয়?

আসল কারণটি হলো অর্থনীতি। চীনের কোটি কোটি সাধারণ দিনমজুর, শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং প্রত্যন্ত ছোট শহরের বাসিন্দারা এখনও এই সাধারণ ট্রেনগুলোর ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। কারণ, অত্যাধুনিক বুলেট ট্রেনের টিকিটের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে, আর এই লোকাল ট্রেনের ভাড়া অত্যন্ত কম। বুলেট ট্রেনগুলি কেবল বড় বড় মেট্রো শহরকে যুক্ত করে, কিন্তু চীনের আসল লাইফলাইন হলো এই সাধারণ ট্রেনগুলিই, যা প্রতিদিন লাখ লাখ খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটায়। আর সেই লাইফলাইনেরই কঙ্কালসার চেহারা এখন বিশ্ববাসীর সামনে চলে এলো।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *