“মন্ত্রী অর্জুনের পাশে তৃণমূল নেতা!”-দেখেই মাঠ ছাড়লেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী

রাজনীতির সৌজন্য বনাম দলীয় আদর্শ—এই দ্বন্দ্বে ফের উত্তাল ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক মহল। রবিবার ব্যারাকপুরের বিভূতিভূষণ ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল প্রীতি ম্যাচ চলাকালীন তৃণমূল নেতা উত্তম দাসকে এক মঞ্চে দেখে অনুষ্ঠান বয়কট করলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তাঁর এই আচরণ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

ঘটনার সূত্রপাত: রবিবার প্রীতি ম্যাচ উপলক্ষে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং, প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেন ও ষষ্ঠী দুলের মতো বিশিষ্ট অতিথিরা। বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী সেখানে পৌঁছে মঞ্চে তৃণমূল নেতা তথা ব্যারাকপুরের প্রাক্তন পুরপ্রধান উত্তম দাসকে উপস্থিত থাকতে দেখেন। অভিযোগ, ওই তৃণমূল নেতার পাশে বসতে অস্বীকার করে বিধায়ক জাতীয় সংগীতের পরপরই মাঠ থেকে বেরিয়ে যান।

কৌস্তভ বাগচীর ব্যাখ্যা: মঞ্চ ছাড়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কৌস্তভ সাফ জানান, “আমি আমার দলের কর্মীদের আবেগ ও আদর্শকে অস্বীকার করতে পারি না। অতীতেও বহুবার জানিয়েছি, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে আমি কোনো মঞ্চ ভাগ করে নেব না। অর্জুন সিং আমাদের সরকারের মন্ত্রী, তাঁর সঙ্গে আমার মঞ্চ শেয়ার করতে আপত্তি নেই, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো নেতার সঙ্গে মঞ্চে বসা আমার নীতির বিরোধী।” যদিও উদ্যোক্তাদের অনুরোধে তিনি জাতীয় সংগীত চলাকালীন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পাল্টা তোপ উত্তম দাসের: বিজেপি বিধায়কের এই আচরণে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন পুরপ্রধান উত্তম দাস। তিনি বলেন, “আমি পুরপ্রধানের পদ ও তৃণমূলের সমস্ত দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছি। এখন আমি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নই। মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। বিধায়ক মঞ্চ থেকে যাওয়ার সময় আমাকে কিছু বলেও গিয়েছিলেন, কিন্তু বাইরে বেরিয়ে যে ধরণের মন্তব্য তিনি করেছেন, তা রাজনৈতিক সৌজন্যের অভাব ছাড়া আর কিছুই নয়।”

রাজনৈতিক বিতর্ক: কৌস্তভ বাগচীর এই সিদ্ধান্তকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ স্বাগত জানালেও, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, ১২ বছর আগে হাবড়ায় তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ‘সিপিএম-বিরোধী’ মন্তব্যের জন্য বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। এদিন কৌস্তভ বাগচীর এই অবস্থান কি রাজনীতির সেই পুরনো ‘অস্পৃশ্যতার’ সংস্কৃতিকেই উসকে দিল? এই প্রশ্নই এখন ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *