মদ কি খাদ্যদ্রব্য নয়? কেরালার মদের গুণমান পরীক্ষা না হওয়ায় তীব্র ভর্ৎসনা সিএজি-র

কেরালায় বিক্রি হওয়া মদের গুণমান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)। খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের (FSO) দিয়ে মদের নমুনা পরীক্ষা না করানোর জন্য রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন সিএজি। তাঁদের দাবি, আইন অনুযায়ী মদও খাদ্যপণ্যের অন্তর্ভুক্ত, তাই এর মান যাচাই করা আবশ্যিক।

কী জানিয়েছে সিএজি-র রিপোর্ট? মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা সাম্প্রতিক অডিট রিপোর্টে সিএজি জানিয়েছে, ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস রেগুলেশনস, ২০১৮’ অনুযায়ী অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ও খাদ্যের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এই আইনে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের যেকোনো খাদ্যদ্রব্যের নমুনা সংগ্রহের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু কেরালায় সেই বিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। ১৯৫৩ সালের ‘ফরেন লিকার রুলস’ অনুযায়ী, মদ অবশ্যই ভেজালমুক্ত হতে হবে। অথচ সিএজি-র নজরে এসেছে যে, মদের উৎপাদনে ব্যবহৃত রং বা এসেন্সের মতো কাঁচামাল আবগারি কমিশনারের অনুমোদন ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে।

সরকারের সাফাই বনাম সিএজি-র যুক্তি: এই বিষয়ে সরকার আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছে যে, সরকারি ল্যাবরেটরিতে রাসায়নিক বিশ্লেষণের পরই মদ বিক্রির ছাড়পত্র দেওয়া হয়। সরকারের দাবি, আবগারি বিধিমালা খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগকে মদের নমুনা সংগ্রহের ক্ষমতা দেয় না।

এর জবাবে সিএজি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও মান আইন, ২০০৬’-এর অধীনেই এফএসও-দের মদের নমুনা সংগ্রহের ক্ষমতা রয়েছে। সিএজি-র মতে, এই নমুনা পরীক্ষা না করায় মদের গুণমান নিশ্চিতকরণের পুরো কাঠামোটিই প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং এটি একটি “গুরুতর নিয়ন্ত্রক ত্রুটি”।

রাজস্বের ঘাটতি ও অমীমাংসিত পর্যবেক্ষণ: শুধু মদের গুণমানই নয়, এদিন বিধানসভায় পেশ করা রিপোর্টে কেরালা সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও ফুটে উঠেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজ্যের রাজস্ব বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০,৩০৮.৫২ কোটি টাকা, যা মোট রাজস্বের প্রায় ২৪ শতাংশ। এছাড়া ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ (Audit Observation) অমীমাংসিত রয়ে গেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজ্যে বিক্রি হওয়া মদের গুণমান এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কতটা তৎপর, সেই প্রশ্ন এখন রাজ্যবাসীর মনে। সরকারের তরফে যদিও জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি ডিস্টিলারি ও ব্রুয়ারিতে খাদ্য সুরক্ষার মানদণ্ড মেনে চলার জন্য আবগারি কর্মকর্তাদের নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সিএজি-র এই কড়া রিপোর্ট কেরালা সরকারের অস্বস্তি যে অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *