গ্রেফতার তৃণমূলের প্রভাবশালী কাউন্সিলর! তমলুকে বড় ধাক্কা মমতার শিবিরের?

রাজ্যজুড়ে চলা দুর্নীতির তদন্তে এবার বড়সড় অ্যাকশন। মঙ্গলবার তমলুক পুরসভার প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলর কানাইলাল দাসকে গ্রেফতার করল তমলুক থানার পুলিশ। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে।
কেন গ্রেফতার কাউন্সিলর? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকের দিন একটি বিশেষ অভিযানে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে কানাইলাল দাসের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণে স্কুল পড়ুয়াদের পোশাক, শাড়ি, ধুতি এবং কম্বল উদ্ধার করা হয়। সরকারি সামগ্রী এভাবে ব্যক্তিগত বাড়িতে মজুত থাকার ঘটনায় জোর গুঞ্জন শুরু হয়। যদিও পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোন নির্দিষ্ট ধারায় বা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা খোলসা করেনি।
সমান্তরাল রাজনৈতিক অস্থিরতা: কাউন্সিলরের গ্রেফতারির এই ঘটনা যখন ঘটছে, তখন রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের অন্দরে চলছে নজিরবিহীন টালমাটাল পরিস্থিতি। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের একের পর এক নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নব্য তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিচ্ছেন, অন্যদিকে দলত্যাগী নেতাদের হাত ধরে তৈরি হয়েছে নতুন তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত, যা কালীঘাট শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের পরিদর্শন: রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মধ্যেই মঙ্গলবার সকাল থেকে শহর জুড়ে সাফাই অভিযানে নেমেছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পুরসভার কাজে স্বচ্ছতা আনতে এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে তাঁর এই পরিদর্শন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তৃণমূল কি অস্তিত্ব সংকটে? রাজ্যজুড়ে একের পর এক গ্রেফতারি এবং সাংগঠনিক ভাঙন—সব মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এক কঠিন সময় পার করছে। কানাইলাল দাসের গ্রেফতারি সেই সঙ্কটের পালে আরও হাওয়া দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একদিকে সিবিআই বা পুলিশের তদন্ত, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ—এই জোড়াফলা সামলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে দলকে রক্ষা করেন, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।