চাকরির প্রস্তুতিতে পাবেন ৩০ হাজার টাকা, শিক্ষাক্ষেত্রে আর কী কী ঘোষণা বাজেটে?

রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের ভোলবদল করতে এবং পড়ুয়াদের স্বাবলম্বী করে তুলতে রাজ্য বাজেটে একাধিক যুগান্তকারী ও বড়সড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। স্কুল থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির প্রস্তুতি—প্রতিটি স্তরের জন্যই বিপুল অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।
নিচে বাজেটের মূল আকর্ষণ ও বড় ঘোষণাগুলি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. চাকরির প্রস্তুতিতে এককালীন ৩০,০০০ টাকা!
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবথেকে বড় সুখবর শুনিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি ও সরকারপোষিত কলেজের যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াবে রাজ্য। তাঁদের এককালীন ৩০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের জন্য বাজেটে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২. বিশ্বমানের পড়াশোনায় ১০০% স্কলারশিপ (Swami Vivekananda Merit Scholarship)
মেধাবী পড়ুয়ারা যাতে অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়ে, তার জন্য বড় পদক্ষেপ। ‘QS World University Ranking’ অনুযায়ী বিশ্বের সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডার গ্রাজুয়েশন বা মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হওয়া রাজ্যের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি এবং স্বাস্থ্য বিমার খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। এটি ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’-এর আওতায় আনা হবে।
এছাড়াও, দেশের জাতীয় স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া মেধাবী পড়ুয়াদের টিউশন ফি-র জন্যও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এই খাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
৩. উত্তরবঙ্গে IIT ও IIM, ১০০০ স্কুলে কোডিং ও রোবোটিক্স
-
নতুন IIT ও IIM: ভারত সরকারের সহায়তায় উত্তরবঙ্গে একটি নতুন IIT এবং একটি IIM স্থাপন করা হবে।
-
Atal Tinkering Lab: পড়ুয়াদের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত চিন্তাভাবনার বিকাশের জন্য ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১,০০০টি স্কুলে ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ তৈরি হবে, যেখানে রোবোটিক্স ও কোডিং শেখানো হবে।
-
PM-SHRI প্রকল্প: রাজ্যের স্কুলগুলির আধুনিকীকরণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মী ঘাটতি মেটাতে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হবে।
৪. মেয়েদের জন্য বিশেষ হস্টেল ও ৬টি নতুন মহিলা কলেজ
মহিলা শিক্ষায় জোয়ার আনতে রাজ্য সরকারের বড় মাস্টারস্ট্রোক:
-
STEM ও হস্টেল সুবিধা: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে (STEM) ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিটি জেলায় PPP Mode-এ একটি করে ছাত্রীবাস (হস্টেল) তৈরি হবে।
-
নতুন মহিলা কলেজ: কাঁথি, কালিয়াচক, জঙ্গিপুর, সাগর, তুফানগঞ্জ এবং ফলতায় নতুন ৬টি মহিলা কলেজ তৈরি করা হবে।
-
স্বাস্থ্যবিধি: রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে।
৫. মিড-ডে মিলে বড় বদল ও রান্নাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধি
-
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের খরচ ছাত্রপ্রতি ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হচ্ছে।
-
কলকাতা পৌরসভা এলাকায় ইসকনের (ISKCON) সহযোগিতায় পুষ্টিকর রান্না করা মিড-ডে মিল দেওয়া হবে।
-
মিড-ডে মিলের রান্নাকর্মীদের (Cook-Cum-Helper) অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে তাঁদের মাসিক সম্মানী ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হলো।
৬. জেলায় জেলায় বিনামূল্যে কোচিং ও আইটিআই-এর আধুনিকীকরণ
-
বিনামূল্যে কোচিং: IIT, JEE, NEET, CAT, CA এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতিটি জেলায় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিতে ‘দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র’ (Skill Development Centre) গড়া হবে।
-
PM-SETU প্রকল্প: আইটিআই (ITI) গুলির আধুনিকীকরণ এবং পরিকাঠামো ও প্লেসমেন্ট ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ৫৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
৭. যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন
-
Institute of Excellence: আগামী ৫ বছরে কেন্দ্রের ১,০০০ কোটি ও রাজ্যের ২০০ কোটি টাকা সহায়তায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের স্তরে উন্নীত করা হবে।
-
নবোদয় ও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়: নবোদয় বিদ্যালয়ের জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগণা, মালদা, ঝাড়গ্রাম ও পূর্ব বর্ধমানে এবং কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের জন্য ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়াতে জমি দেবে রাজ্য।
-
সংস্কৃত ভাষার প্রসার: সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
-
স্কুলের আধুনিকীকরণ: প্রতিটি প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে গ্যাস কানেকশন, সোলার প্লেট, ওয়াটার পিউরিফায়ার এবং ফ্যানের ব্যবস্থা করা হবে। এক্ষেত্রে রাজ্যের রাঢ় অঞ্চল অগ্রাধিকার পাবে।