রাম মন্দির অনুদানে কি বড়সড় অনিয়ম? হাইকোর্টের পর এবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা

অযোধ্যার রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের প্রাপ্ত অনুদানে কথিত অনিয়ম ও চুরির অভিযোগে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন আবেদনকারীরা। এলাহাবাদ হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ হওয়ার পর, মামলাটিকে উচ্চতর আদালতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের মূল দাবিগুলো: সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে বেশ কিছু জোরালো দাবি জানানো হয়েছে:
-
সিবিআই তদন্ত: স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিবিআই-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের আবেদন।
-
তদন্তের প্রক্রিয়া: অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করা এবং অনুদান সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের দাবি।
-
ফরেনসিক অডিট: ট্রাস্টের তহবিল ও সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে একটি শক্তিশালী ফরেনসিক অডিটের আর্জি।
-
সিসিটিভি ও ডিজিটাল নথি: মন্দিরে প্রাপ্ত অর্ঘ্য বা দানের হিসাব এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ যাবতীয় ডিজিটাল প্রমাণ সুরক্ষিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
কেন এই বিতর্ক? এর আগে মোহিত অশোক নামে এক ব্যক্তি এলাহাবাদ হাইকোর্টে অনুদান চুরির ঘটনায় জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে জানায়, বিষয়টি উত্তর প্রদেশ সরকারের নজরে রয়েছে এবং বর্তমানে জরুরি শুনানির প্রয়োজন নেই। এর আগে আইনজীবী নরেন্দ্র কুমার গোস্বামীও মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেছিলেন।
স্বচ্ছতার দাবি: মামলাকারীদের বক্তব্য, দেবতার উদ্দেশ্যে আসা দান বা অর্ঘ্য জনমানসের ভাবনার সঙ্গে যুক্ত, যা ট্রাস্টের সম্পত্তি। তাই এর সঠিক ব্যবস্থাপনা ও হিসাবের প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের স্বচ্ছতা থাকা অপরিহার্য।
বর্তমানে এই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক চর্চা চলছে। রাম মন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে বা সরকারিভাবে এখনও এই আইনি লড়াইয়ের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে মামলার এই গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে ট্রাস্টের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।