শান্তি আলোচনার মধ্যেই যুদ্ধের হুমকি! ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারিতে কাঁপছে ইরান

একদিকে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে যখন ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ইরানের বিরুদ্ধে অগ্নিমূর্তি ধারণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননে ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর কার্যকলাপ নিয়ে তেহরানকে সরাসরি হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, “এসব বন্ধ না করলে ইরানকে এবার আরও বড় হামলার মুখে পড়তে হবে।”
ট্রাম্পের ‘ভয়ংকর’ হুঁশিয়ারি: নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানকে লেবাননে তাদের মোটা টাকায় পোষা দালালদের ঝামেলা করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যদি তারা তা না করে, তবে গত সপ্তাহের চেয়েও অনেক বড় ও ভয়াবহ হামলার মুখোমুখি হতে হবে তাদের।” আলোচনার টেবিলে বসার পরেও ট্রাম্পের এই আগ্রাসী বার্তা ভূ-রাজনীতিতে বড় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
শান্তি আলোচনার জটিল সমীকরণ: সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে, যার লক্ষ্য আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপন করা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে ওয়াশিংটন গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও অনিশ্চিত।
ইরানের পাল্টা শর্ত: ওয়াশিংটন যখন আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক নতুন করে শুরু করতে চাইছে, তখন ইরান উল্টো পথে হাঁটছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কিছু শর্ত পূরণ না হলে তারা পরবর্তী ধাপে এগোবে না:
-
শর্ত ১: লেবাননের অভ্যন্তরে ইজরায়েলি সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
-
শর্ত ২: পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী আর্থিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সুযোগ-সুবিধা চালু করতে হবে।
-
পাল্টা চাপ: অভিযোগ উঠেছে, আলোচনার মধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ পুনরায় চালু করেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য বড় হুমকি।
কেন এই পরিস্থিতি? ইরান সরাসরি আমেরিকার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেছে, লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষ থামাতে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় চাপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পারস্পরিক দোষারোপ এবং ট্রাম্পের হুমকির ফলে সুইজারল্যান্ডে চলমান শান্তি আলোচনা এখন চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কি আবারও যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসছে? এখন সেটাই দেখার বিষয়।