বিদ্যুৎ বিলের চিন্তা শেষ! ঘরে ঘরে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, সৌর বিপ্লবে রেকর্ড গড়ল ভারত

ভারতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশে রুফটপ সোলার বা বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর হিড়িক পড়েছে। গত বছরের তুলনায় এই ইনস্টলেশন ১২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৭ গিগাওয়াটে (GW) পৌঁছেছে, যা ভারতের সৌরশক্তির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন রেকর্ড।
পিএম সূর্য ঘর যোজনা: সাফল্যের মূল চাবিকাঠি সৌরবিদ্যুতের এই জোয়ারের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে ভারত সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প’। কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকি, আবেদনের সরল প্রক্রিয়া এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সোলার প্যানেল বসানোর আগ্রহ তুঙ্গে। এই ত্রৈমাসিকে মোট নতুন সোলার সংযোগের ৮২ শতাংশই এসেছে আবাসিক বা গৃহস্থালি গ্রাহকদের কাছ থেকে।
কোন রাজ্য এগিয়ে? সৌরশক্তির এই দৌড়ে মহারাষ্ট্র এবং উত্তরপ্রদেশ এখন দেশের অবিসংবাদী নেতা:
-
মহারাষ্ট্র: ১৭ শতাংশ শেয়ার নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে এই রাজ্য।
-
উত্তরপ্রদেশ: ১৬ শতাংশ অবদান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, প্রবৃদ্ধির হারে উত্তরপ্রদেশ এখন দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল সৌরবাজার। রাজ্যে ১০.৫৭ লক্ষেরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে এবং ৬ লক্ষেরও বেশি বাড়িতে সফলভাবে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে।
-
গুজরাট: ১৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এই রাজ্যটি।
সৌরবাজারের বিস্তৃতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌরশক্তি এখন আর কেবল ঐতিহ্যবাহী রাজ্যগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আসাম, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের হার অবিশ্বাস্য গতিতে বাড়ছে। শিল্প খাতের চেয়ে আবাসিক খাতের এই অভূতপূর্ব উত্থান প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির দিকে ঝুঁকছে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ২০২৬ সালের মার্চ মাস নাগাদ ভারতের মোট রুফটপ সোলার সক্ষমতা ২৩.৫ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে। যদিও নতুন বড় প্রজেক্টের ক্ষেত্রে টেন্ডার বা নিলামের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে, তবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া এই ‘সৌর বিপ্লব’ ভারতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এক বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।