চিকুনগুনিয়ার যম গোমূত্র? আইআইটি-র চাঞ্চল্যকর গবেষণায় শোরগোল!

আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে প্রাচীন আয়ুর্বেদ কতটা কার্যকর? এই বিতর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে এবার বড় সাফল্যের দাবি করলেন আইআইটি (IIT) রূড়কির গবেষকরা। দেশি গরুর মূত্র বা ‘গোমূত্র অর্ক’ থেকে চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক ভাইরাসের মোকাবিলা সম্ভব বলে উঠে এসেছে তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণায়।

কী বলছে গবেষণা? ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ‘কাউপ্যাথি’ বা দেশি গরুর পঞ্চগব্য নিয়ে গবেষণার জন্য ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই আইআইটি রূড়কির বিজ্ঞানীরা গোমূত্র নিয়ে বিস্তারিত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা চালান। গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, গোমূত্র একটি শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাল এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে সক্ষম, যা চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। গবেষকদের এই দাবি বিজ্ঞান মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুধুমাত্র ওষুধই নয়, আরও চমক: গোমূত্র ছাড়াও পঞ্চগব্যের অন্যান্য উপাদান নিয়ে কাজ করছেন আইআইটি বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটির (IIT-BHU) বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় দেখা গেছে:

  • প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক: দুধ, দই, ঘি, গোবর ও গোমূত্র—এই পাঁচ উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি পঞ্চগব্য অত্যন্ত কার্যকর প্রাকৃতিক ডিসইনফেক্ট্যান্ট হতে পারে।

  • মরচে রোধে গোবর: আইআইটির অন্য একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, গোবরে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান আছে যা ধাতুর ওপর সুরক্ষাকবচ তৈরি করে মরিচা পড়া আটকাতে সাহায্য করে।

  • প্রযুক্তিগত ব্যবহার: গোবরকে কাজে লাগিয়ে উন্নতমানের ইলেকট্রোড তৈরি এবং বায়োগ্যাস বার্নারের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ঐতিহ্য: গবেষকদের মতে, বিজ্ঞান মানে অন্ধ বিশ্বাস নয়, আবার প্রমাণের আগে কোনো কিছুকে স্রেফ কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দেওয়াও যুক্তিসঙ্গত নয়। হাজার বছরের পুরনো আয়ুর্বেদকে আধুনিক প্রযুক্তির ল্যাবরেটরিতে ফেলে যাচাই করার এই প্রয়াস প্রমাণ করছে, আমাদের অতি পরিচিত সাধারণ উপাদানের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বড় সমাধান।

৯৮ কোটির এই সরকারি প্রকল্প আগামী দিনে কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *