হরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি! ‘চুক্তি না হলে টোল আরোপ করবে আমেরিকা’

একদিকে সুইজারল্যান্ডে কূটনৈতিক আলোচনার তোড়জোড়, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বাগযুদ্ধ। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী নিয়ে এবার সরাসরি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ‘গার্জিয়ান অ্যাঞ্জেল’ বার্তা:
শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, বর্তমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তো বটেই, এমনকি এই সময়সীমা পার হওয়ার পরেও হরমুজ প্রণালীতে কোনো শুল্ক আরোপ করা হবে না—যদি না আমেরিকা নিজে তা করার প্রয়োজন মনে করে। ট্রাম্পের ভাষায়, “যদি কোনো চুক্তি না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ‘অভিভাবক দেবদূত’ (Guardian Angel) হিসেবে কাজ করার যে বিশাল খরচ, তা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র এই জলপথে নিজস্ব টোল আরোপ করবে।”

ইরান ও আমেরিকার দ্বৈরথ:
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন ইরান দাবি করেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এই দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ইরান প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে না এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এমনকি শনিবারই ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রায় ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে।

সুইজারল্যান্ডে আলোচনার টেবিলে কারা?
পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই রবিবার সুইজারল্যান্ডে শুরু হচ্ছে মার্কিন-ইরান কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকে যোগ দিতে তেহরান থেকে রওনা হয়েছেন সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং তেল ও অর্থ দপ্তরের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনা চালাচ্ছেন হোয়াইট হাউসের জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচির খুঁটিনাটি ও জব্দ হওয়া সম্পদ মুক্তির বিষয়টিই এই আলোচনার মূল এজেন্ডা।

কেন এই জলপথ এত গুরুত্বপূর্ণ?
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী। প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে, এখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বা ট্রাম্পের ঘোষিত ‘শুল্ক পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন হলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *