বাংলাদেশে ভগবান রামের ছবির অবমাননা, বিরাট বিক্ষোভ মিছিল হিন্দুদের

ভগবান শ্রীরামের ছবি অবমাননা এবং মূর্তি নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে রংপুর—দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সরকারের কাছে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
কী নিয়ে এই অশান্তি? ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশের গাঁইবান্ধা জেলার পলাশবাড়িতে। সেখানে শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটির উদ্যোগে একটি বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছিল, যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ৮১ ফুটের ভগবান রামের মূর্তি। মন্দিরের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই ছন্দপতন ঘটে। স্থানীয় উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ও একটি ইসলামি সংগঠনের হুমকির মুখে কাজ মাঝপথে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, এক উগ্র বক্তা বুলডোজার দিয়ে মূর্তিটি গুঁড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।
রাস্তায় নামলেন হাজার হাজার মানুষ এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকার শাহবাগ মোড় থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত এক বিশাল মশাল মিছিল বের হয়। হিন্দু মহাজোটের ডাকে আয়োজিত এই মিছিলে হাজার হাজার মানুষ ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। একই সঙ্গে রংপুরসহ অন্যান্য জেলায় বিক্ষোভ ও পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভগবান রামের ছবির ওপর জুতো রেখে অবমাননা করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও দাবি শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটির সভাপতি হরিদাস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, নিরাপত্তার অভাব এবং চরম ভয়ের পরিবেশেই কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রজেক্টে রাম ছাড়াও শ্রীকৃষ্ণ ও শিবের মূর্তিও তৈরির পরিকল্পনা ছিল। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
পাশাপাশি, হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে—যদি অবিলম্বে রামের মূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু করতে না দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা জুড়ে একের পর এক রাম মন্দির নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা রয়েছে আন্দোলনকারীদের। এদিকে জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদ দেশজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে এই ঘটনা ফের নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।