‘অভিমান’ কি কপি করা? প্রযোজনা সংস্থা ও প্রসেনজিতের কৌশলী জবাবে শোরগোল

মুক্তি পেতেই বড়সড় বিতর্কের মুখে যিশু, শুভশ্রী ও প্রসেনজিৎ অভিনীত ছবি ‘অভিমান’। একদিকে আকাশ চ্যাটার্জির চরিত্রে প্রসেনজিতের অভিনয় নিয়ে দর্শক মহলে প্রশংসার জোয়ার, অন্যদিকে পরিচালক সুমন ঘোষের তোলা ‘গল্প ও চরিত্র চুরির’ গুরুতর অভিযোগ ঘিরে উত্তাল টলিপাড়া।
কী অভিযোগ সুমন ঘোষের? সুমন ঘোষের দাবি, তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও স্বতন্ত্র ভাবনায় তৈরি চিত্রনাট্য ‘স্টার’-এর সঙ্গে ‘অভিমান’-এর গল্পের হুবহু মিল রয়েছে। পরিচালকের বিস্ফোরক অভিযোগ, বিগত আড়াই বছর ধরে এই সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে খোদ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। অথচ সেই প্রসেনজিৎকেই যখন ‘অভিমান’-এ একই ধরণের চরিত্রে দেখা গেল, তখনই ক্ষোভ উগরে দেন সুমন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক খোলা চিঠিতে তিনি দাবি করেন, তাঁর ভাবনার অপব্যবহার করা হয়েছে।
প্রসেনজিতের সাফাই এই বিতর্কে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন ‘ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠপুত্র’। ফেসবুক পোস্টে প্রসেনজিৎ লেখেন, “পরিচালক হিসেবে সুমনের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সৃজনশীল কাজ নিয়ে মাঝেমধ্যে এমন কাকতালীয় মিল হতে পারে। আমাদের সব কাজই মানুষের আবেগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।” সেই সঙ্গে প্রসেনজিৎ স্পষ্ট করে দেন যে, ‘অভিমান’ একটি স্বতন্ত্র এবং আইনত নথিবদ্ধ প্রজেক্ট। তিনি বলেন, “অভিনেতা হিসেবে আমার কাজ শুধু চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা। কারও সৃজনশীলতাকে অমর্যাদা করার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না।”
কী বলছে প্রযোজনা সংস্থা? বিতর্ক বাড়তে থাকায় আসরে নেমেছে যিশু ও সৌরভ দাসের প্রযোজনা সংস্থা। এক বিবৃতির মাধ্যমে তাঁরা দাবি করেছে, ‘অভিমান’-এর মূল ভাবনাটি যিশু সেনগুপ্তর নিজস্ব। সেখান থেকেই চিত্রনাট্য ও সংলাপ তৈরি করেছেন কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। সংস্থার দাবি, সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল ও সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ছবিটি নির্মিত হয়েছে।
টলিউডের অন্দরমহলে এই ‘গল্প চুরির’ বিতর্ক কতটা জল গড়ায়, এখন সেটাই দেখার। তবে ছবি মুক্তির ঠিক পরেই এমন অভিযোগে ‘অভিমান’-এর ব্যবসায়িক সাফল্যের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।