টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের জেরে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের! এক সপ্তাহে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল লোকসান?

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে ডিজিটাল বাণিজ্যে তৈরি হয়েছে এক চরম সংকট। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বড়সড় ধাক্কা খেয়েছেন দেশের অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী।
৫ লক্ষ ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা সংকটে চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI)-এর দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, টেলিগ্রাম বন্ধের ফলে দেশের প্রায় ৫ লক্ষ ব্যবসায়ী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে তাঁদের সম্মিলিত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ হওয়ায় ব্যবসা পরিচালনায় যেমন জটিলতা তৈরি হয়েছে, তেমনি বিপণন ও গ্রাহক পরিষেবার সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীরা চরম হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি সংগঠনের।
কেন এই ক্ষোভ? জানা গেছে, NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেলের কার্যকলাপকে চিহ্নিত করেছে সরকার। মূলত সেই কারণেই অ্যাপটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মাত্র কয়েকটি বেআইনি চ্যানেলের জন্য গোটা অ্যাপটি নিষিদ্ধ করে দেওয়ায় নির্দোষ সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলির পাঁঠা হয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্বারস্থ ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, বেআইনি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের কর্তব্য, তবে তার জন্য যাতে বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। ব্যবসায়িক সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা এখন দিশেহারা।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ জরুরি হলেও, এতে অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় সরকার এই ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে কোনো নির্দিষ্ট বিকল্প অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পরামর্শ দেয় কি না, নাকি এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বহাল থাকে।