কালীঘাটে বড়সড় ভাঙন: জ্যোতিপ্রিয়-গৌতমের পদত্যাগের পর কি একঘরে মমতা?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাঠামো ভেঙে পড়ছে। সম্প্রতি এই সংকটের গভীরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রবীণ নেতাদের ইস্তফা এবং সাংসদদের দলবদলের খবরে।
মূল যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে:
-
নেতাদের বিদায়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন গৌতম দেব।
-
মেয়রদের পদত্যাগ: ফিরহাদ হাকিম, কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং রাম চক্রবর্তীর মতো প্রভাবশালী মেয়রদের ইস্তফার পর গৌতম দেবের পদত্যাগ তৃণমূলের পুরবোর্ডগুলোকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
-
সাংসদদের বিদ্রোহ: ইতিমধ্যেই ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে ‘NCPI’ নামক আঞ্চলিক দলে যোগ দিয়েছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতাও এই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
-
অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহীদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। দাবি করা হচ্ছে, তৃণমূলের প্রায় ৬৫ জন বিধায়ক এখন এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকেছেন। পাশাপাশি, অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিমের মতো নেতাদের বর্তমান অবস্থান কালীঘাটের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মমতার সামনে কি বিকল্প পথ খোলা? কখনও ‘লড়াকু নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি এই বিপর্যয় সামলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন? দলের অভ্যন্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের মতো নেতাদের অস্বস্তিকর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের পুরনো নেতৃত্ব এবং নতুন প্রজন্মের দ্বন্দ্ব, দুর্নীতির অভিযোগ এবং একের পর এক নেতার দলত্যাগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক দশকের বেশি সময়ের আধিপত্যে বড়সড় ফাটল ধরিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কালীঘাট এই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংকট কীভাবে সামাল দেয়।