টেন্ডারে ১৫ শতাংশ কমিশন, স্ত্রীকে ফ্ল্যাট-উপহার! ইডির জেরায় ফাঁস ওসির দুর্নীতির পাহাড়

দীর্ঘ জল্পনার অবসান। কয়লা পাচার মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে। তদন্তকারীদের দাবি, এই পুলিশ আধিকারিক নিজের পদের অপব্যবহার করে প্রায় ৭ কোটি টাকা বেআইনিভাবে পকেটে পুরেছেন।

ইডির জালে কীভাবে? দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে অসহযোগিতা করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিকালে তাঁকে গ্রেফতার করেন ইডি আধিকারিকরা। ইডি সূত্রে খবর, ধৃত মনোরঞ্জন মণ্ডল কয়লা পাচারের সিন্ডিকেটের মূল পান্ডাদের একজন। কয়লা পাচারকারীদের অর্থের বিনিময়ে তিনি নিরাপত্তা বা ‘প্রটেকশন’ দিতেন। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মাধ্যমে একাধিক পাচারকারীর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণও মিলেছে।

দুর্নীতির ফিরিস্তি: তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য:

  • হাওয়ালি কারবার: ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা দিল্লিতে হাওয়ালার মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন মনোরঞ্জন। অর্থাৎ, তিনি সরাসরি হাওয়ালার মতো বেআইনি আর্থিক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।

  • কমিশন ও উপহার: চিন্ময় মণ্ডল নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে সরকারি টেন্ডারের ১৫ শতাংশ শেয়ার দাবি করেছিলেন তিনি। এই বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি নিজের স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করতে বলেছিলেন এবং সেই টাকায় ফ্ল্যাটও বুক করেছিলেন।

  • ব্যাংক লেনদেন: বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৫০ লক্ষ, ২৫ লক্ষ টাকা করে জমা পড়ার প্রমাণ মিলেছে, যার উৎস ছিল এই বেআইনি কয়লা কারবার।

আইনি লড়াই: এদিন আদালতে হাজিরা দিতে এসে মনোরঞ্জন মণ্ডলের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। পাশাপাশি, জামিন না মিললে তাঁকে জেলে প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। যদিও পাল্টা ইডি আদালতকে জানিয়েছে, বারবার সমন পাঠানোর পরেও হাজিরা এড়িয়েছেন এই প্রাক্তন ওসি। কয়লা পাচারের এই গোটা চক্র ভাঙার জন্য এবং আরও গভীরে পৌঁছাতে অভিযুক্তকে ১০ দিনের নিজেদের হেফাজতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

দীর্ঘদিন ‘প্রটেকশন মানি’র আড়ালে দুর্নীতি চালানো এই প্রভাবশালী ওসির গ্রেফতারি যে কয়লা পাচারকাণ্ডে বড় মোড় আনল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *