রাম মন্দির নিয়ে অযথা মন্তব্যে নিষেধাজ্ঞা! সিট (SIT) তদন্ত নিয়ে বড় বার্তা দিলেন যোগী আদিত্যনাথ

অযোধ্যার রাম মন্দিরে দান ও চড়াও সংক্রান্ত বিষয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার অযোধ্যায় পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কেউ যেন কোনো প্রকার ভিত্তিহীন মন্তব্য না করেন।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি সকলকে অনুরোধ করব, এমন কোনো মন্তব্য করবেন না যা রাম ভক্তদের মনে আঘাত দেয়। তদন্ত চলছে, দুধের স্বাদ ঘোলে মিটবে না। এসআইটি (SIT) পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যদি কারোর কাছে এই দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা নথি থাকে, তবে দয়া করে তা তদন্তকারী দলের কাছে জমা দিন। দোষী যেই হোক না কেন, কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।” মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত সকলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা অন্তত ১৫ দিন অপেক্ষা করুন, চিন্তার কোনো কারণ নেই। সত্য অবশ্যই সামনে আসবে।”

রাম মন্দির নিয়ে চলা এই বিতর্কের আবহেই এদিন বিরোধী দলগুলোকে নিশানা করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। নাম না করে সমাজবাদী পার্টিকে বিঁধে যোগী বলেন, “যাঁরা অতীতে অযোধ্যায় কারসেবকদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন, আজ তাঁরাই রাম ভক্তদের দরদ দেখাচ্ছেন! তাঁদের এই দ্বিচারিতা ও কপটতা মানুষ দেখছে। এটি তাঁদের নিছক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার।”

অযোধ্যার উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “কিছু অশুভ শক্তি কখনোই চায় না অযোধ্যার সামগ্রিক উন্নয়ন হোক। তাঁরা অযোধ্যাকে ছোট করে দেখানোর বা বদনাম করার সুযোগ খুঁজছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ ও রাম ভক্তরা তাঁদের এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবেন না।”

ট্রাস্টের অনুরোধেই সরকার যে এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যোগী আদিত্যনাথ আশ্বাস দিয়েছেন যে, স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। রাম মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা এবং ভক্তদের ভাবাবেগ অক্ষুণ্ণ রাখাই বর্তমান প্রশাসনের অঙ্গীকার। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর আপাতত বল এখন সিটের কোর্টে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট কী তথ্য সামনে নিয়ে আসে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *