লাবণী সম্রাজ্ঞীর অদম্য জেদ! সন্তান প্রসবের পর মঞ্চে ফিরে তাক লাগালেন শ্রদ্ধা কাপুর

মহারাষ্ট্রের লোকসংস্কৃতির এক কালজয়ী অধ্যায় নিয়ে সিলভার স্ক্রিনে ফিরছেন পরিচালক লক্ষ্মণ উটেকর। ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের মহাকাব্যিক গাথা ‘ছাভা’-র বিশাল সাফল্যের পর, এবার পরিচালক তৈরি করছেন ‘ঈথা’। প্রখ্যাত লাবণী শিল্পী বিঠাবাই ভাউ মাং নারায়ণগাঁওকরের বর্ণময় এবং সংগ্রামমুখর জীবন নিয়ে নির্মিত এই ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করছেন শ্রদ্ধা কাপুর। তাঁর বিপরীতে দেখা যাবে রণদীপ হুডাকে।
আজ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ককটেল ২’-এর সাথে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের জন্য উন্মোচিত হলো ‘ঈথা’-র প্রথম টিজার। টিজারের প্রথম ফ্রেম থেকেই শ্রদ্ধা কাপুর যেন আক্ষরিক অর্থেই বিঠাবাইয়ের চরিত্রে মিশে গিয়েছেন। টিজারে দেখানো হয়, গর্ভবতী অবস্থায় মঞ্চে নাচতে নাচতে হঠাৎই প্রসব বেদনা অনুভব করেন বিঠাবাই। কিন্তু শিল্পী সত্তা যাঁর রক্তে মিশে আছে, তিনি কি মাঝপথে শো ছেড়ে যেতে পারেন? টিজারের সেই শিহরণ জাগানো দৃশ্যে দেখা যায়, মঞ্চের পেছনে গিয়ে পাথর দিয়ে নাভি কেটে সন্তান প্রসবের পর, রক্তমাখা শরীরেই পুনরায় মঞ্চে ফিরে আসেন এই অকুতোভয় শিল্পী। বিঠাবাইয়ের এই নিষ্ঠা ও সাহসিকতার দৃশ্য দেখে দর্শকাসন স্তব্ধ হয়ে যায়।
গল্পের সত্যতা বজায় রাখতে মুম্বাইয়ের মাধ আইল্যান্ড থেকে সোলাপুর, সাতারা, নাসিক ও ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্গম স্থানে ছবিটির শ্যুটিং হয়েছে। শ্যুটিংয়ের এক কঠিন অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিতে গিয়ে জানা যায়, লাবণীর একটি জটিল দৃশ্য চিত্রগ্রহণের সময় শ্রদ্ধা কাপুরের বাম পা ভেঙে গিয়েছিল, তবুও তিনি দমে যাননি।
‘তামাশা সম্রাজ্ঞী’ বিঠাবাইয়ের লড়াইয়ের শুরুটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। পান্ধারপুরের শিল্পী পরিবারে বেড়ে ওঠা বিঠাবাই তাঁর বাবা ও কাকার হাত ধরে লোকনৃত্যের জগতে পা রাখেন। পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রয়োজনে তিনি মঞ্চকে আঁকড়ে ধরেছিলেন। ১৯৫৭ এবং ১৯৯০ সালে রাষ্ট্রপতির পুরস্কারে ভূষিত হলেও, তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছিল চরম অর্থকষ্টে। এমনকি মৃত্যুর পর তাঁর হাসপাতালের বিল মেটাতে হয়েছিল দানশীল ব্যক্তিদের। বিঠাবাইয়ের জীবনের এই উত্থান-পতনের গল্পই এবার বড় পর্দায় আনতে চলেছেন লক্ষ্মণ উটেকর।
আগামী ২৮শে আগস্ট ২০২৬ বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ‘ঈথা’। আপাতত টিজারটি শুধুমাত্র প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে শ্রদ্ধার এই রূপান্তর ও বিঠাবাইয়ের অসামান্য জীবনী দেখতে দর্শকদের যে অধীর আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।