“আমাদের সন্তানরা ব্যবস্থার বলি!” নিট কেলেঙ্কারিতে মর্মাহত অভিজিৎ দীপকে, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার জোরালো দাবি

ভারতের চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET-UG) বর্তমানে এক চরম সংকটের মুখে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং পুনঃপরীক্ষার অনিশ্চয়তার চাপে দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি আবেগঘন ও বিস্ফোরক খোলা চিঠি লিখেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

অভিজিৎ দীপকে তাঁর চিঠিতে যে তথ্য তুলে ধরেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানিয়েছেন, নিট পরীক্ষার প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও হতাশার কারণে গত কয়েক সপ্তাহে সারাদেশে ১১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। মর্মান্তিক এই ১১টি মৃত্যুর মধ্যে ৫টিই ঘটেছে গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে। দীপকে লিখেছেন, গত দুই মাসে তিনি নিজে বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। মেধা ও স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করা এই তরুণদের মৃত্যু আসলে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও ব্যর্থ শিক্ষা ব্যবস্থার চূড়ান্ত পরিণতি।

এই সংকটের আরেকটি বেদনাদায়ক দিক হলো মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারের চরম আর্থিক দুর্দশা। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে ভারতের মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় বাজি রেখেছিল, অনেকে চড়া সুদে ব্যাংক লোন নিয়েছিল। আজ সন্তানদের মৃত্যুর পাশাপাশি এই পরিবারগুলো ঋণের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়েছে। ভেঙে পড়েছে তাদের স্বপ্ন ও মেরুদণ্ড।

অভিজিৎ দীপকে এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন:
১. প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অবিলম্বে ১ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
২. পরীক্ষার অব্যবস্থাপনা ও প্রশ্নফাঁস বিতর্কের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ।
৩. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।

সংকট এখানেই শেষ নয়। দীপকে ঘোষণা করেছেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও হৃত আস্থা পুনরুদ্ধারের দাবিতে আগামী ২০শে জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে এক বিশাল গণআন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ঠিক একদিন আগে, ২১শে জুন নিট ইউজি-র পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের চাপে কোনো নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করবে, নাকি সংঘাত আরও তীব্রতর হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *