চাকরির প্রথম মাসেই বড় উপহার! সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে মোটা অঙ্কের টাকা

গত বছর ১লা আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া ‘প্রধানমন্ত্রী বিকাশিত ভারত রোজগার যোজনা’-র আওতায় দেশের নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১৯শে জুন, দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেশের নতুন কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ২৪০০ কোটি টাকার বিশেষ ভাতা বা ইনসেনটিভ স্থানান্তর করবেন। প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) সংস্থার স্থানীয় কমিশনার সত্যবর্ধন গৌতম এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই মহতী উদ্যোগের অংশ হিসেবে গোয়ালিয়রের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বিধানসভার স্পিকার নরেন্দ্র সিং তোমর এবং সাংসদ ভরত সিং কুশওয়াহাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ উল্লেখ্য যে, এই জেলার অন্তত ১৩৬১ জন নতুন কর্মী তাঁদের কর্মজীবনের প্রথম চাকরির সুবাদে সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৭১ লক্ষ টাকারও বেশি আর্থিক সুবিধা পেতে চলেছেন। দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে সারা দেশের হাজার হাজার নতুন কর্মী যুক্ত হবেন।
কমিশনার সত্যবর্ধন গৌতম জানান, ইপিএফও (EPFO)-র অধীনে এই জেলায় প্রায় ১৫,০০০ সংস্থা নিবন্ধিত থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩,৬০০টি সংস্থা নিয়মিতভাবে তাদের কর্মীদের পিএফ চাঁদা জমা দিচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য সংস্থাটিকে অবশ্যই এই যোজনায় নিবন্ধিত হতে হবে এবং কেবল সেইসব কর্মীরাই এই ভাতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, যারা তাঁদের কর্মজীবনের প্রথম চাকরিতে সদ্য যোগদান করেছেন।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের উৎসাহিত করছে যাতে তারা বেশি করে তরুণদের নতুন চাকরিতে নিয়োগ দেয়। নতুন কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের একটি নির্দিষ্ট অংশ সরকার বহন করার ফলে সংস্থাগুলোর ওপর আর্থিক বোঝা কমছে, যার ফলে তারা আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরিতে আগ্রহী হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক ও কারিগরি ক্ষেত্রে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি কেবল কর্মসংস্থান নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে যুবশক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যারা প্রথমবারের মতো চাকরিতে প্রবেশ করছেন, তাঁদের জন্য এই সরকারি সহায়তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং উৎসাহব্যঞ্জক।