বড় ধস শেয়ার বাজারে! আইটি শেয়ারের রক্তক্ষরণে দিশেহারা লগ্নিকারীরা

১৯ জুন, ২০২৬। সপ্তাহের শেষ কাজের দিনটি ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য ছিল রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মতো। শুক্রবার সকাল থেকেই সেনসেক্স এবং নিফটি—উভয় সূচকেই বড়সড় পতনের সাক্ষী রইলেন বিনিয়োগকারীরা। বিশ্ববাজারে আইটি সেক্টর নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলির লাগাতার বিক্রির চাপ বাজারের মেজাজ পুরোপুরি বিগড়ে দিয়েছে।

এদিন সকালের বাজার খোলার সাথে সাথেই সেনসেক্স প্রায় ৫৫৭ পয়েন্টের ধস নেমে ৭৮,৮৫২ পয়েন্টে থমকে যায়। অন্যদিকে নিফটি ১৭৬ পয়েন্ট খুইয়ে ২৩,৯৯১ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। গত ট্রেডিং সেশনের তুলনায় এই বিশাল পতন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএসই মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সূচকগুলিও এদিন লাল চিহ্নেই লেনদেন করছে।

এই পতনের নেপথ্যে সবথেকে বড় কারণ হলো গ্লোবাল আইটি জায়ান্ট ‘এক্সেনচার’-এর গ্রোথ গাইডেন্স কমিয়ে দেওয়া। এক্সেনচারের এই ঘোষণার পরেই আমেরিকা ও বিশ্ব বাজারে ইনফোসিস এবং উইপ্রোর এডআর (ADR) হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। তার প্রত্যক্ষ প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতীয় শেয়ার বাজারে। বিএসইতে আইটি সেক্টরের কোম্পানিগুলি সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিন ইনফোসিসের শেয়ারে ৮ শতাংশেরও বেশি ধস নেমেছে। এছাড়া টেক মাহিন্দ্রা, টিসিএস এবং এইচসিএল টেক-এর দরও উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমেছে। বিপরীত দিকে আইসিআইসিআই ব্যাংক, সান ফার্মা এবং মারুতির শেয়ারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গিয়েছে।

বাজারের পরিসংখ্যান বলছে, এনএসইতে এদিন ১,৪৯৮টি শেয়ার পতনের মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে উত্থান হয়েছে মাত্র ১,১২৪টি শেয়ারের। তবে দেশীয় লগ্নিকারী সংস্থা বা ডিআইআই (DII)-এর ভূমিকা কিছুটা হলেও বাজারে সামলানোর চেষ্টা করেছে। ১৮ জুন এফআইআই (FII) যেখানে ১,০২৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে বাজারের চাপ বাড়িয়েছে, সেখানে ডিআইআই ৩,৫১৬ কোটি টাকার শেয়ার কিনে বাজারের মেরুদণ্ড টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।

বাজার বিশ্লেষক হিতেশ টেলার জানাচ্ছেন, “বৈশ্বিক অস্থিরতার মুখে দাঁড়িয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ক্রমাগত সতর্ক থাকছেন, যার প্রভাব ভারতের বাজার থেকে সরাসরি উঠে আসা বিক্রির চাপে দেখা যাচ্ছে।”

অন্যদিকে এশিয়ার অন্য বাজারের দিকে তাকালে মিশ্র ছবি দেখা যাচ্ছে। জাপানের নিক্কেই কিছুটা সবুজে থাকলেও হংকং-এর হ্যাং সেং সূচক ১.৬২ শতাংশ পতন নিয়ে লেনদেন করছে। শুক্রবার সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে সপ্তাহের শেষ দিনে ভারতীয় বাজারে অনিশ্চয়তার মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে। আপাতত বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত ডেটা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *