আয়ুষ্মান কার্ডের ৫ লক্ষ টাকায় কোন কোন রোগের চিকিৎসা হয়? জেনেনিন সবকিছু

অনেকেই মনে করেন ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড থাকলে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। কিন্তু এই সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের বেশ কিছু শর্ত এবং নির্দিষ্ট বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা হাসপাতালে যাওয়ার আগে প্রতিটি রোগীর জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় কার্ড থাকা সত্ত্বেও রোগীদের অপ্রত্যাশিত মেডিকেল বিলের মুখে পড়তে হয়।
প্রকল্পের মূল সুবিধা কী? কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য পরিবারগুলি সারা দেশের তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পান। এই বার্ষিক সীমা পুরো পরিবারের জন্য প্রযোজ্য এবং প্রতি বছর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিনিউ হয়। হাসপাতালে ভর্তির আগে ৩ দিন এবং ভর্তির পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত চিকিৎসার খরচও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
কার্ডে কোন কোন রোগের চিকিৎসা মেলে? গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে এই কার্ড অত্যন্ত কার্যকর। এর আওতায় যেসব রোগের চিকিৎসা পাওয়া যায়, তার মধ্যে অন্যতম:
-
হার্টের জটিল অপারেশন।
-
ক্যান্সারের চিকিৎসা।
-
কিডনি সংক্রান্ত গুরুতর অসুস্থতা।
-
নিউরোসার্জারি ও জরুরি অস্ত্রোপচার।
-
মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য পরিষেবা।
কী কী অন্তর্ভুক্ত নয়? (অবশ্যই জেনে রাখুন) বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাই ভুল ধারণার বশবর্তী না হয়ে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
-
আউটডোর পরিষেবা: সাধারণ জ্বর, কাশি বা মাথাব্যথার জন্য ডাক্তারের পরামর্শের ফি, ক্লিনিকে যাওয়া এবং সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ কার্ডে মেলে না।
-
নির্দিষ্ট চিকিৎসা: কসমেটিক বা প্লাস্টিক সার্জারি, আইভিএফ (IVF), এবং দাঁতের সাধারণ চিকিৎসার খরচ প্রকল্পের আওতা বহির্ভূত।
-
ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট: ভিটামিন, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট, টনিক এবং প্রাত্যহিক ওষুধের খরচ রোগীকে নিজের পকেট থেকেই বহন করতে হয়।
আবেদন করবেন কীভাবে? আপনি যদি যোগ্য হন, তবে সরকারি পোর্টাল, কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC) বা নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত হাসপাতালের মাধ্যমে আয়ুষ্মান কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনের জন্য পরিচয়পত্র হিসেবে [তথ্য redacted], রেশন কার্ড এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.myscheme.gov.in
হাসপাতালে ভর্তির সময় সর্বদা কার্ডটি সঙ্গে রাখুন এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক থেকে আপনার রোগটি প্রকল্পের আওতাভুক্ত কিনা, তা আগেই নিশ্চিত করে নিন। সচেতনতাই আপনাকে অযথা আর্থিক ভোগান্তি থেকে বাঁচাতে পারে।