এনসিপিআই-তে যোগ দিচ্ছেন ২২ সাংসদ? তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে নিয়ে মুখ খুললেন কাকলি ঘোষদস্তিদার

বিধানসভা ভোটের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ ক্রমশ বাড়ছে। দলের অন্দরের সেই ভাঙন এখন চরমে। একদিকে যখন বিধায়কদের একাংশ নিজেদের মতো করে পরিষদীয় দলনেতা বেছে নিচ্ছে, অন্যদিকে লোকসভাতেও তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে কোনো আঁতাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে জল্পনা। আর সেই জল্পনায় মঙ্গলবার জল ঢাললেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার।
কী বললেন কাকলি? মঙ্গলবার সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষদস্তিদার স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক এবং বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই। তাঁর কথায়, ‘‘বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে আমাদের (বিধায়ক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর) কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁরা সম্পূর্ণ আলাদা একটি গোষ্ঠী। তাঁদের রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং কর্মসূচিও আমাদের থেকে ভিন্ন।’’
তৃণমূলের অন্দরে জটিল সমীকরণ: তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত এখন জটিল মোড় নিয়েছে। বিধানসভায় আগে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, পরবর্তীতে ৫৯ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের দলনেতা হিসেবে বেছে নেন। স্পিকার রথীন্দ্র বোস ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়েছেন। ফলে দলের অন্দরেই দুটি সমান্তরাল পাওয়ার সেন্টার তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, লোকসভায় তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ এনসিপিআই-তে মিশে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সূত্র মারফত খবর, এই বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যা ২২ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহারাষ্ট্রের শিবসেনা স্টাইলে যদি ঋতব্রতরা বা এনসিপিআই-এর সাংসদরা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান, তবে আইনি লড়াই আরও তীব্র হবে। যদিও এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে এমন কোনো দাবিপত্র জমা পড়েনি।