বায়ুসেনা অফিসারের স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্মান্তর, দেখেনিন মারাত্মক ভাইরাল ভিডিও

বন্ধুত্বের আড়ালে এক ভয়াবহ অপরাধ ও ব্ল্যাকমেলের চক্র প্রকাশ্যে এল নাগপুরে। একজন ভারতীয় বিমান বাহিনী (Air Force) আধিকারিকের স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে অচেতন অবস্থায় ধর্ষণ, অশ্লীল ভিডিওর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল এবং জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণের চেষ্টার অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কী ঘটেছিল? পুলিশ ও অভিযোগকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা মহিলা পেশায় প্রপার্টি ডিলার। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর প্রাক্তন সহপাঠী আইয়াজ তাজ মাদারে একটি প্লট কেনার অছিলায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। অভিযোগ, আলোচনার নাম করে ওয়ার্ধা রোডের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ঘুমের ওষুধ মেশানো জুস খাইয়ে অচৈতন্য করা হয়। এরপরই তাঁকে ধর্ষণ করা হয় এবং সেই ঘটনার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে রাখা হয়।

ব্ল্যাকমেল ও লক্ষাধিক টাকা আদায় অভিযুক্তরা ওই অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মহিলাকে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন শোষণ চালিয়েছে। মহিলার দাবি, অভিযুক্ত আইয়াজ এই ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৩.০৯ লক্ষ টাকাও আদায় করেছে। এখানেই শেষ নয়, তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি ধর্মীয় আচারের নামে জোর করে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালন করতেও বাধ্য করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত যুবক মহিলাটিকে জোর করে কলমা পাঠ করতে বাধ্য করছে।

পুলিশি তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপ নির্যাতিতা তাঁর স্বামী বাড়ি ফেরার পর পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। এরপরই সোনেগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনার ভয়াবহতা বিচার করে ধর্ষণ, তোলাবাজি (extortion), জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টা এবং ‘মহারাষ্ট্র কুসংস্কার ও কালো জাদু নিরোধ’ আইনের অধীনে মামলা রুজু করেছে।

  • গ্রেফতার: ইতিমধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত আইয়াজসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত তাদের ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
  • তদন্ত: পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, ৩১ মে ওই মহিলাকে কালমেশ্বরে নিয়ে গিয়ে আমিন শেখ ও এক মওলানার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়। তাঁদের বিরুদ্ধেও ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই পলাতক মওলানার খোঁজে মধ্যপ্রদেশে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

এই ঘটনাটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে যে অপরাধের জাল বিস্তার করা হয়েছিল, তা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, এই অপরাধী চক্রের নেপথ্যে আরও কেউ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।